জেলা 

চায়ের দোকানে বসে বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলে প্রকল্প থেকে নাম কেটে দেব হুঁশিয়ারি বিজেপি নেতার!

শেয়ার করুন

সরকারি প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা যেমন তাঁদের হাতে, সেই তালিকা থেকে কোনও নাম ছেঁটে ফেলতেও তাঁরা দ্বিধা করবেন না। তাই চায়ের দোকান বা মিষ্টির দোকানে বসে রাজ্য সরকারের সমালোচনা নৈব নৈব চ— এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মালদহের এক বিজেপি নেতা। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল তাঁর ভাষণ।

মালদহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা হবিবপুর। সেখানকার কলাইবাড়িতে অন্নপূর্ণা যোজনা এবং সরকারি আবাস যোজনা নিয়ে বক্তৃতা করেন বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্য তারাশঙ্কর রায়। পথসভা থেকে কলাইবাড়ি, ঋষিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘বিজেপি সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেবেন, তার পরেও এই সরকারের বদনাম করবেন, এটা চলবে না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘যাঁরা যাঁরা অন্নপূর্ণা (যোজনার টাকা) পেয়েছেন, তার পরেও সরকারের নামে বদনাম করছেন, যাঁরা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার জন্য নাম তুলেছেন, তাঁরাও সরকারের নামে বদনাম করছেন। আমি তাঁদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, সাবধান হয়ে যান বন্ধু! নামটা ওঠানোর যদি ক্ষমতা রাখতে পারি, নামটা কেটে দেওয়ার ক্ষমতাও আমরা রাখতে পারি।’’ বিজেপি নেতার কথায়, বিজেপির সুনাম না-করলেও চলবে, কিন্তু সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিলে সরকারের সমালোচনা করা চলবে না। তারাশঙ্করের কথায়, ‘‘সরকারের খাব, সরকারের সুযোগ-সুবিধা নেব, আর সরকারের নামে চায়ের দোকানে, মিষ্টির দোকানে বদনাম করব— এ সব যদি আমার কানে আসে, কী ভাবে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর পান এবং কী করে অন্নপূর্ণার টাকা পরের মাস থেকে পান, তার ব্যবস্থা করব।’’

বিজেপির জেলা পরিষদের সদস্যের বক্তব্য, ‘‘সরকারের খেলে সরকারের গুণ গাইতে হবে। সরকারের সুনাম করলে তবেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা মিলবে।’’ তিনি সাবধান করে দিয়েছেন, রাজ্য সরকারের নামে গুজব ছড়ানো যেন বন্ধ হয়। যদি তা হয়, সে যে দলেরই কর্মী বা সমর্থক হোন না কেন, সরকারি প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না। কী ভাবে বঞ্চিত হতে পারেন, তা-ও ভাইরাল ভিডিয়োয় বলতে শোনা গিয়েছে— ‘‘আপনার আবেদন এখানে জমা পড়বে, জেলা স্তরে গিয়ে আমরা নাম কেটে দেব।’’

ওই ভিডিয়ো প্রসঙ্গে মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘জেলা পরিষদ সদস্য এলাকায় মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন যে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেলে বিজেপি সরকারের গুণগান গাইতে হবে। এটা কেমন কথা! আপনি তো সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করতে চাইছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে এসেছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আগে পূরণ করুন। কিন্তু আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন। তাই সাধারণ মানুষ আন্দোলন করছে। আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এই ভাবে জনসাধারণের মুখ বন্ধ করতে পারবেন না।’’

পাল্টা ওই বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, ওই বক্তব্য তাঁরই। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের কিছু লোক সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। তার পরেও সাধারণ মানুষকে তারা বিপথে চালিত করেছে। ভুল তথ্য দিচ্ছে। গুজব রটাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যে ওই কথা বলেছি। এটা আমার ব্যক্তিগত মত।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ