প্রচ্ছদ 

রাষ্ট্রের শক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে ছাত্র বিক্ষোভের উপর বল প্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ছাত্র-ছাত্রীদের অসন্তোস্তের সামাল দেওয়ার জন্য বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন করে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বাহিনীকে আরো বেশি সংযমী হওয়া উচিত এবং আন্দোলনকারীদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রের শক্তি বোঝাতে গিয়ে বলপ্রয়োগ করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

নিট প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনের সময়ে গত ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। ওই মিছিল চলাকালীন যেমন পুলিশি বাড়াবাড়ির অভিযোগ উঠেছে, একই সঙ্গে বাহিনীর উপরে হামলারও অভিযোগ উঠেছে। দু’ধরনের অভিযোগ নিয়ে আগেই মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। এ বার ওই মিছিল ঘিরে অশান্তির ঘটনায় নতুন করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে। মামলাকারী মণীশকুমার সোলাঙ্কির দাবি, অশান্তির ঘটনায় ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির আয়োজকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হোক।

বুধবার এ বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মামলাকারীর আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মামলাটি শুনতে রাজি হয়েছে। দিল্লির ছাত্রবিক্ষোভ সংক্রান্ত বাকি মামলার সঙ্গে এই মামলাটিও শুনবে আদালত। ছাত্রবিক্ষোভ সামলাতে সরকারের এবং বাহিনীর ভূমিকা কী থাকা উচিত— তা এ দিন নতুন মামলাটি গ্রহণ করার সময়ে স্পষ্ট করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বুঝিয়ে দেয়, এ ধরনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আরও সংযমী থাকা প্রয়োজন। কেন তাঁরা আন্দোলন করছেন, সেই কারণগুলি বোঝার চেষ্টা করাই শ্রেয় বলে মনে করছে আদালত।

প্রশ্নফাঁস বিরোধী ছাত্রবিক্ষোভের সময়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ বাহিনীর দিকে পাথর ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সে বিষয়টি নিয়েও এ দিন ফের আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তবে প্রধান বিচারপতি কান্তের পর্যবেক্ষণ, বিপথে চালিত হয়ে যদি কেউ পাথর ছুড়েও থাকেন, তা-ও ওই তরুণদের কথা শোনা প্রয়োজন। তাঁদের শান্ত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া দরকার। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, “তাঁরা (আন্দোলনকারীরা) তরুণ। তাঁদের কাউন্সেলিং এবং সঠিক পরামর্শের প্রয়োজন। রাষ্ট্রের শক্তি দেখাতে কোনও বলপ্রয়োগ করা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলতে পারে। অশান্তি আরও বাড়তে পারে। তাই এ সব থেকে দূরে থাকা দরকার।”

আদালতের মতে, এ সব ক্ষেত্রে তরুণদের কথা শোনাই বিক্ষোভ সামলানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হয়ে উঠতে পারে। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “পরিস্থিতি যাতে কোনও ভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সংযমী থাকা দরকার। যা-ই ঘটুক না কেন, তা খুব সাবধানে সামাল দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, তরুণেরা যেন কোনও অশান্তিতে জড়িয়ে না পড়েন। তাই সবচেয়ে ভাল উপায় হল— তাঁদের কথা শোনা। তাঁদের কথা শুনুন, কেন তাঁরা প্রতিবাদ করছেন— তা বোঝার চেষ্টা করুন।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ