দেশ 

দেশের তিন রাজ্যের বিধানসভার উপনির্বাচনে দুটি গেল বিরোধীদের হাতে একটি মাত্র পেল বিজেপি তাও গুজরাটে! সিঁদুরে মেঘ দেখছে গেরুয়া শিবির

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিদায় কী আসন্ন? আজ বিহারের বাকি পুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। এই কেন্দ্রটি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপির জাতীয় সভাপতির নীতিন নবীন। তিনি জাতীয় সভাপতি হওয়ার কারণে এই আসনটি ছেড়ে দেন আর সেই আসনের উপনির্বাচনে বিজেপি কার্যত গোহারা হেরে গেল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী পিছিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যামশিং একমাত্র গুজরাটের মঞ্জরুলপুর আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি।

সোমবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত প্রবণতা অনুযায়ী, ২০ রাউন্ড গণনার পরে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৪০১৬৯। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার সিনহার থেকে তিনি ১১,৬২১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। শুরু থেকেই তাঁর ব্যবধান ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা যায়।

বাঁকিপুর দীর্ঘদিনের বিজেপি দুর্গ। এই কেন্দ্র থেকে আগে কোনও বিজেপি প্রার্থী পরাজিত হননি। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছাড়ায় আসনটি খালি হয়।

এই উপনির্বাচনে প্রথমে অভিষেক কুমার সিনহাকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরদিনই তিনি ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর দলের যুবনেতা নীরজ কুমার সিনহাকে প্রার্থী করা হয়।

বিজেপির প্রার্থী বদল নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা। তাদের দাবি ছিল, নিজেদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের আশঙ্কায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

আরজেডি-র প্রার্থী রেখা গুপ্তার সমর্থনে প্রচারে নেমে তেজস্বী যাদব দাবি করেছিলেন, জাতি, ধর্ম ও সামাজিক পরিচয়ের সীমা পেরিয়ে তাঁর দলের প্রার্থী সমর্থন পাচ্ছেন। যদিও গণনার প্রবণতায় প্রশান্ত এবং বিজেপি প্রার্থীর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন আরজেডি প্রার্থী।

প্রশান্তের এগিয়ে যাওয়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ একটি আসনেও জিততে পারেনি। বাঁকিপুরে জয় পেলে সেটি হবে দলের প্রথম বড় নির্বাচনী সাফল্য এবং প্রশান্ত কিশোরের নির্বাচনী অভিষেকেই জয়।

দাতিয়ায় কংগ্রেসের ঘনশ্যাম এগিয়ে

মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া আসনে কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং ৩৮ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিলেন।

কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী ২ এপ্রিল অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় আসনটি খালি হয়েছিল। উপনির্বাচনে প্রথমবার বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি।

দাতিয়া একসময় মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক হন। তবে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হন।

এই উপনির্বাচনে নরোত্তম মিশ্রকে প্রার্থী না করায় তাঁর অনুগামীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যামের দাবি, অসন্তুষ্ট বিজেপি কর্মীদের একাংশ তাঁকে ভিতরে ভিতরে সাহায্য করেছেন।

ঘনশ্যাম দু’বারের প্রাক্তন বিধায়ক এবং দাতিয়ার প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য। তিনি ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পুরনো জনসংযোগ, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং বিজেপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের উপর ভর করেই তিনি নির্বাচনে লড়েছেন।

মঞ্জলপুরে আসন ধরে রাখল বিজেপি

গুজরাতের মঞ্জলপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির সতীশ গোবিন্দভাই প্যাটেল ৩০ হাজারের বেশি ভোটে কংগ্রেসের ভিখাভাই রাবারিকে পরাজিত করেছেন বলে সর্বশেষ ফলাফলে জানা গিয়েছে।

বিজেপি বিধায়ক যোগেশভাই নারানদাস প্যাটেলের মৃত্যুতে আসনটি খালি হয়। উপনির্বাচনে বিজেপি ভদোদরা পুরনিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলর সতীশ প্যাটেলকে প্রার্থী করেছিল। কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা দলের গুজরাত সহ-সভাপতি ভিখাভাই রাবারি।

মঞ্জলপুর কেন্দ্র তৈরির পর ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন যোগেশ প্যাটেল। তার আগে ১৯৯০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত পাঁচবার ভদোদরার রাওপুরা কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পরেও মঞ্জলপুরে দলের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখল বিজেপি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ