কলকাতা 

১৫ দিনের মধ্যে তোলাবাজি বন্ধ না হলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি শমীকের!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : কাট মানি তোলাবাজি বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতা বদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের মতই বিজেপির নেতাকর্মীরা তোলাবাজি করে চলেছে বলে বিভিন্ন স্তর থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। আজ শনিবার পহেলা আগস্ট কার্যতর এই অভিযোগ কে স্বীকার করে নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

এই আবহে এ বার তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ১৫ দিন সময় বেঁধে দিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘শুধরে যান, নয়তো বুঝিয়ে দেওয়া হবে বিজেপি কী জিনিস!’’

বিজেপির নামে, দলীয় পতাকা হাতে অনেকে তোলাবাজি করছেন, সেই অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়েছেন শমীক। তবে এ-ও ইঙ্গিত দিলেন, তাঁদের অধিকাংশই ‘রাতারাতি’ বিজেপি হওয়া নেতাকর্মী। তোলাবাজি নিয়ে সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে শমীক বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরাও দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ভাবে যেটা করার করছি।’’ তিনি মেনে নেন, ‘‘দু’-একটা জায়গায় বিচ্যুতি আছে।’’ তবে সেই ‘বিচ্যুতি’ যে দীর্ঘদিন সহ্য করা হবে না, তা স্পষ্ট জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর কথায়, ‘‘আরও ১৫ দিনের সময় দিচ্ছি আমরা। তার পরে যেটা হবে বুঝতে পারবেন।’’

শনিবার রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে শমীকের বক্তৃতার একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল তোলাবাজি প্রসঙ্গ। ওই মঞ্চ থেকেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন তিনি। ‘ডিম থেরাপি’-র বিষয় উল্লেখ করে শমীকের সতর্কবার্তা, ‘‘এই ডিম কিন্তু ঘুরে গিয়ে অন্য দিকেও পড়তে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে। আমাদের দলকে মনেও রাখবে হবে।’’

শমীকের মতে, পৃথিবীতে সমস্ত একচেটিয়া একদলীয় একাধিপত্যের পতন হয়। সেই পতন আটকানো মুশকিল। তাই আগেভাগেই সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘‘আমরা ২০৭, এই শরীরী ভাষা নিয়ে কেউ যদি নেমে পড়েন ময়দানে, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে।’’ পালাবদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজি, কাটমানি, হুমকি-সহ নানা অভিযোগে রাজ্যে নানা প্রান্তে ধরপাকড় চলছে। পুলিশের জালে তৃণমূলের অনেক ছোট-মাঝারি-বড় নেতা। গ্রেফতারির পর তাঁদের অনেককে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে দেখা গিয়েছে। সেই বিষয় মনে করিয়ে দিয়ে শমীকের বার্তা, ‘‘মনে রাখবেন ডিমের অভিমুখ বদলাতে সময় লাগবে না।’’

তৃণমূল জমানার দুর্নীতি রাতারাতি শেষ করা সম্ভব হয়েছে, তা মনে করেন না শমীক। তাঁর কথায়, ‘‘দু’মাস হয়েছে একটা সরকার তৈরি হয়েছে। সমস্ত কিছু সমাধান করা যায়নি। যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তবে ভুল বলছি। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন চলেছে। সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর যে সমস্ত কিছু বদলে গিয়েছে সেটা নয়।’’ পালাবদলের পর অনেকে দল বদলেছেন রাতারাতি। তৃণমূলের ঝান্ডা ছেড়ে বিজেপির পতাকা ধরেছেন। শমীক সেই সব ‘দলবদলুদের’ সতর্ক করে বলেন, ‘‘আমরা দলের পক্ষ থেকে সেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি। আবার বলছি, পুরোপুরি করতে পেরেছি সেটা নয়।’’ তিনি আশাবাদী, শীঘ্রই তোলাবাজি-সমস্যা গোড়া থেকে নির্মূল করা সম্ভব হবে।

তোলাবাজি আটকাতে শমীকের বার্তা যথেষ্ট ‘দায়িত্বশীল’ বলে মনে করেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘শমীকের কথাগুলো শুনতে নিঃসন্দেহে শুনতে ভাল লাগছে। আমি আশা করব, যা বলেছেন আন্তরিক ভাবে বলেছেন।’’ তবে এ-ও বলেন, ‘‘আমরা আগেও দেখেছি শমীক ভট্টাচার্য দলের জন্য যে রূপরেখা তৈরি করে দেন, সেটা জেলায় জেলায় বহু কর্মী মানেন না। উনি দায়িত্বশীল মন্তব্য করেছেন। তবে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ তো তাঁর দলের কর্মীরাই করছেন।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ