ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গে কথা বলতে রাজি মোদি সরকার
অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কথা বলতে রাজি মোদি সরকার। সোমবার সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিযানের মধ্যেই সরকারের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আবার, অনশনরত সোনম ওয়াংচুকও মিছিলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। হাসপাতাল থেকে কিছুক্ষণের জন্য ছুটি চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি।
সিজেপি প্রসঙ্গে সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সৌরভেরা দাবি করেছেন, নড্ডা তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। সময়ও দিয়েছেন। সেই মতো সকালেই নড্ডার সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়ে গিয়েছেন ককরোচদের দুই প্রতিনিধি। সৌরভ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমি এবং আশুতোষ রাঙ্কা ককরোচ জনতা পার্টির তরফে জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। সকালে সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট। তরুণ প্রজন্ম প্রচুর সংখ্যায় জমায়েত করেছে।’’
শিক্ষায় দুর্নীতি এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে সোনম দিল্লির যন্তর মন্তরের সামনে অনশনে বসেছিলেন। ককরোচদের দাবিগুলিকেও সমর্থন করেন তিনি। গত শনিবার, অনশনের ২১তম দিনে সোনমকে বিক্ষোভস্থল থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকের পুলিশ। দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে আপাতত তাঁকে রাখা হয়েছে। বেআইনি ভাবে আটকে রাখার অভিযোগ তুলেছেন সোনম। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সোমবার সকালেই তিনি একটি চিঠি দেন। তাতে হাসপাতালের ডিরেক্টরের উদ্দেশে লিখেছেন, ‘‘আমি আজ খুব ভাল আছি। আমার স্বাস্থ্যের সূচকগুলিও স্বাভাবিক। সাময়িক ভাবে হলেও দয়া করে আমাকে হাসপাতাল ছাড়ার অনুমতি দিন, যাতে আমি সংসদ ভবন অভিযানে যোগ দিতে পারি।’’
এই চিঠির ছবি সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে লেখা হয়, ‘‘সোনম ওয়াংচুক আপনাদের সকলের সঙ্গে দেখা করার জন্য খুব চেষ্টা করছেন। এইমাত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি একটি চিঠি দিয়েছেন। বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ। তাঁকে আটকে রাখা হয়নি বলে হাসপাতাল দাবি করছে। তা হলে এই নিষেধাজ্ঞা কেন?’’
সোনমকে সফদরজং হাসপাতাল থেকে বার করে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। দিল্লি হাই কোর্টে মামলাও করেছেন তিনি। সিঙ্গল বেঞ্চে রবিবার তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে তিনি ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সিজেপি-র সংসদ ভবন অভিযানে সোমবার ১০ হাজার মানুষের জমায়েত হয় দিল্লিতে। সোনমের অনুরোধেই অনশন তুলে নিয়েছেন ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দীপকে। এ ছাড়া, যন্তর মন্তরের সামনে অনশনরত তিন ছাত্রনেতাও অনশনে ইতি টেনেছেন।

