দেশ 

ভোট দিতে পারবেন বিবেচনাধীন ভোটাররা! বড় সিদ্ধান্ত শীর্ষ আদালতের

শেয়ার করুন

এসআইআর ইস্যুতে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। যার আঁচ পৌঁছেছে রাজধানী দিল্লিতেও। আজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসআইআরের মূল মামলার শুনানি। ‘এখনও পর্যন্ত ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীনের তালিকায় থাকা ১০ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি’, সুপ্রিম কোর্টে জানালেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

শীর্ষ আদালতে এসআইআরের মূল মামলার শুনানির দিকে তাকিয়ে আপামর রাজ্যবাসী। ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম এখনও বিবেচনাধীন। আজ সুপ্রিম কোর্টে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি জানান, এখনও পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ১০ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছেন আরও ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার। যদিও সুপ্রিম কোর্টে মেনকা গুরুস্বামীর (Menaka Guruswamy) সওয়াল, ‘মাত্র ৭ লক্ষ লোকের নিষ্পত্তি হয়েছে, এখনও বাকি ৫৭ লক্ষ’। আবার এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে জানানো হয়েছে যে ‘১০ লক্ষ লোকের নিষ্পতি হয়েছে, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির চিঠি পেয়েছি’।

Advertisement

এর আগে, রাজ্যে SIR নিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে বেনজির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। SIR প্রক্রিয়া দেখভালের সঙ্গে যুক্ত করা হয় বিচার বিভাগকে। বলা হয়, এবার তথ্যগত অসঙ্গতির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বর্তমান এবং প্রাক্তন জুডিশিয়াল অফিসাররা। জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘাটতি মেটাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। ‘কাজ শেষ করতে সিনিয়র-জুনিয়র ডিভিশনের সিভিল জজদের নিয়োগ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি’, এর আগেই এই নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁকে জানিয়েছেন যে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের শুনানির কাজ নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে ‘জুডিশিয়াল অফিসারদের নিজেদের মতো করে কাজ করতে দিন। আপনারা সবকিছু জানেন না, কোথায় কী হচ্ছে আমরা জানি।’ তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই পুরো প্রক্রিয়ার অনেককিছু সম্বন্ধেই সুপ্রিম কোর্ট অবগত। এদিকে, মেনকা গুরুস্বামী জানান যে তাঁরা জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন তোলেননি। তাতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যদি কোনও ভোটারের সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তবে তিনিও ভোট দিতে পারবেন। সমস্ত বৈধ ভোটারদের তালিকায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই বিচার বিভাগ কাজ করছে। তবে এক্ষেত্রে কোনও জুডিশিয়াল অফিসারদের কর্মদক্ষতা নিয়ে যেন কোনও প্রশ্ন না ওঠে। যদি কেউ তা করে থাকেন তবে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করা হবে’। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না, মন্তব্য মেনকা গুরুস্বামীর।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘যদি কোনও জুডিশিয়াল অফিসার মনে করেন কেউ বৈধ ভোটার নন, তাহলে তিনি ভোট দিতে পারবেন না। জুডিশিয়াল অফিসারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সবাইকে সতর্ক করছি, দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করা হবে’, সতর্কবার্তা প্রধান বিচারপতির। ‘জুডিশিয়াল অফিসারদের ভোটারদের যে তালিকা রিভিউ করার জন্য দেওয়া হয়েছে সেটা প্রত্যাহার করা হোক। আপনাদের কমিশনের কাছে আবেদন এটাই, এটা তো আমাদের নির্দেশের পরিপন্থী’, রাজ্যের উদ্দেশে মন্তব্য প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর। এর পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, দু’পক্ষের সততা নিয়ে আমরা এই মুহূর্তে সন্দিহান। ‘দরকার হলে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে পারেন। জুডিশিয়াল অফিসারদের নির্দেশের বিরুদ্ধে এই ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করা যাবে’, জানালেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ