কর্নাটকে ফের ক্ষমতায় এলে এনআরসি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ১০ লক্ষ বেকারের চাকরি, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ মুকুব এবং মহিলাদের ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি
বাংলার জনরব ডেস্ক : বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবিকেই কর্ণাটকে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপির নেতারা। বিগত কয়েক বছর ধরে কর্নাটকে ক্ষমতায় থাকার পর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ ্ব এবং সাধারন মানুষের মধ্যে বিজেপি সরকারের নানা কাজকর্মে ক্ষোভ ফলে আসন্ন কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে অনেকটাই ব্যাক ফুটে রয়েছে শাসক বিজেপি। এছাড়াও কর্ণাটকের বিজেপি সরকারের দুর্নীতি এই নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে রেখেছে শাসক দলকে।
এই প্রেক্ষাপটে ভোটের মাত্র দশ দিন আগে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করল বিজেপি। এই ইশতেহারে বলা হয়েছে বিজেপি দল যদি কর্নাটকে পুনরায় ক্ষমতায় আসে তাহলে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি এবং এনআরসি লাগু করবে।বলা হয়েছে, কর্নাটকে আরও এক বার পদ্ম ফুটলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত রাজ্যছাড়া করা হবে।
সোমবার দলের ইস্তাহার প্রকাশ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দলের লিঙ্গায়েত মুখ বিএস ইয়েদুরাপ্পা। ইস্তাহার প্রকাশ করে নড্ডা জানান, বাতানুকূল ঘরে বসে এটা তৈরি করা হয়নি। সমাজের সব স্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের চাহিদা অনুসারেই ইস্তাহার তৈরি করা হয়েছে। নড্ডা কর্নাটক বিজেপির দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সবার জন্য ন্যায়বিচার, কিন্তু কারও প্রতি তোষণ নয়।” এই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, তাঁর দল রাজ্যে মুসলিমদের জন্য ৪ শতাংশ সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে তুলে দিয়ে লিঙ্গায়েত এবং ভোক্কালিগাদের মধ্যে তা ভাগ করে দিয়েছে। বিজেপির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে কংগ্রেস এবং জেডি(এস) আগেই জানিয়ে রেখেছে যে, তারা ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের জন্য সংরক্ষণ আবার ফিরিয়ে আনবে।
বিজেপি এই ইস্তাহারের নাম দিয়েছে ‘প্রজা প্রণালী’। উৎপাদন ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে এখনও ইস্তাহার প্রকাশ করা না হলেও দলের নেতারা প্রচারে গিয়ে বিনামূল্য ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ, মহিলাদের মাসে ২০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিরোধী দলগুলি মনে করছে, হিজাব নিয়ে বিতর্কের পর উন্নয়নের মডেলকে সামনে রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় মেরুকরণকেও উস্কে দিতে চাইছে বিজেপি। তাই এনআরসি, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করাকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে। অমিত শাহ-সহ বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বহু বার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর কথা বলেছেন। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে সব ধর্মের মানুষ একই রকম পারিবারিক, বিবাহ ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইন মানতে বাধ্য থাকবেন। সে ক্ষেত্রে মুসলিমদের পার্সোনাল ল’বোর্ড-সহ ব্যক্তিগত ধর্মীয় আইনের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।
কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই বিজেপি উগ্র হিন্দুত্বকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে। এই উদ্দেশ্য আদৌ সফল হবে কিনা তার প্রমাণ মিলবে আগামী ১৩ই মে ভোটের ফল প্রকাশের দিন। তবে এ পর্যন্ত প্রকাশিত সমস্ত সমীক্ষায় বলছে কর্নাটকে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এখন হিন্দুত্বকেই আকড়ে ধরতে চাইছে।

