ধর্ষককেই বিয়ে করার জন্য চাপ আত্মঘাতী নির্যাতিতা, যোগীর রাজ্যের ঘটনায় দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য
বাংলার জনরব ডেস্ক: উত্তর প্রদেশে নারী নির্যাতন বেড়েই চলেছে আর এর চেয়ে আরো একজন নির্যাতিতার মর্মান্তিক মৃত্যু হল। ওই নির্যাতিতা নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ ও নিঃস্বার্থই তাকে সে পুরুষ ধর্ষণ করেছিল তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই কারণেই ওই মেয়েটি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে সূত্রের খবর।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) ফারুখাবাদের ফতেগড় থানা এলাকায়।
২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি ১৬ বছরের ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape) করে দুই ব্যক্তি। গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ দুজনকেই গ্রেফতার করে। গত আগস্টে জামিনে দু’জনই জেল থেকে ছাড়া পায়। এরপরই শুরু হয় নির্যাতিতাকে নানা ভাবে চাপ দেওয়া। ধর্ষণে অভিযুক্তরাই তাকে চাপ দেয় এক অভিযুক্তকে বিয়ে করার জন্য। শেষ পর্যন্ত গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় সে। তখন মাঠে কাজ করছিল তার বাবা। চিৎকার শুনে দৌড়ে ঘরে এসে দেখেন এই কাণ্ড। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নাবালিকার দেহের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

নাবালিকার মৃত্যুর পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। নড়েচড়ে বসে পুলিশ। অভিযুক্ত দু’জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করবে পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমে নাবালিকার বাবা বলেন, ‘‘ওই দু’জন আমার মেয়েকে শেষ করে দিল। মেয়ের মোবাইলে ওরা মেসেজ পাঠাত। হুমকি দিয়ে বলত, কথা না শুনলে গোটা পরিবারকে শেষ করে দেওয়া হবে। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে মেয়ে গায়ে আগুন দেয়।’’
উল্লেখ্য, বারবার নারী নির্যাতনের ঘটনায় উঠে এসেছে যোগী রাজ্যের নাম। হাথরাস থেকে উন্নাও- একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে বিরোধীরা। পরিসংখ্যান বলছে, এই মুহূর্তে খুন, নারীদের উপর অত্যাচারে দেশে সবার আগে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য।

