জেলা 

ত্রিপুরায় বাম সরকারের পর এবার বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতন হবে, পতন ঘটাবে বিজেপি : নরেন্দ্র মোদী।

শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ  রাজ্যের মেদিনীপুরের কৃষক কল্যাণ সমাবেশ এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করেন।  তিনি রাজ্যের মা-মাটি-মানুষের সরকারকে সিন্ডিকেটের সরকার বলে খোঁচা দিয়ে বলেন, মা-মাটি-মানুষের সরকারের আসল ছবি হল সিন্ডিকেট। চিটফান্ড থেকে আলুর বন্ড বিক্রি, সবেতেই সিন্ডিকেটের বাড়বাড়ন্ত। বাংলার মানুষ এখন বুঝতে পারছেন বামপন্থীদের সরিয়ে কী বিপদ ডেকে এনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী রীতিমত কটাক্ষের সুরে  বলেন, ভোটব্যাঙ্কের জন্য সিন্ডিকেট খোলা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবেই খুলেছে রাজ্যের শাসকদল। বাংলার যুবকরা চাকরি পাচ্ছেন না। বামপন্থীদের সরিয়ে কী এই বিপদ আপনারা ডেকে আনতে চেয়েছিলেন। প্রশ্ন ছুড়ে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।তিনি এদিন আরও বলেন, পঞ্চায়েতে জোরজুলুম, সন্ত্রাসের ভোট হয়েছে। বাম শাসনের থেকেও খারাপ অবস্থা বাংলায়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে অপশাসন চলছে। আতঙ্কের মধ্যেও ভোট করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। তাঁদেরকে প্রণাম না জানিয়ে পারছি না। সেই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, যে গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, সে বাংলায় বাঁচবে না।

এদিন তিনি বলেন, ত্রিপুরায় বাম সরকারের পতন হয়েছে, এবার বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতন হবে, পতন ঘটাবে বিজেপি। ২০১৯ থেকেই সেই পতনের সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সভাস্থলে আসার পথে দুধারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও হোর্ডিং টাঙানো ছিল এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আসার সময়েও রাস্তার দুধারে জনসমাগম দেখে আমি খুব খুশি।সেইসঙ্গে বলেন, আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ, তিনি নিজের ছবি লাগিয়ে আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী এদিন নিজের কৃষক দরদী ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষে কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমার সরকার আপনাদের সরকার, কিষান দরদী সরকার। আমার সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কৃষকদের মুনাফা দেবে, তাঁদের শক্তি জোগাবে। তিনি রাজ্যবাসীর প্রতি বলেন, ২০২২-এ কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর সরকারের। কারণ গ্রামের উন্নয়ন না হলে দেশ এগোতে পারবে না। মোদী বলেন, বাংলায় আলুর ফলন ভালো হয়। বন্যায় আলু চাষের ক্ষতি হয়েছে। হিমঘর নেই পর্যাপ্ত। আলু চাষিদের জন্য তাই বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। তিনি আরও বলেন, ধানের নতুন সহায়কমূল্য বাড়িয়েছি। চটের দাম বেড়েছে। এতে উপকৃত হবে বাংলার চাষিরা। তিনি এদিন বাঁশ চাষের পক্ষেও সওয়াল করেন।   ভারতের স্বপ্নপূরণ করতে এগিয়ে এসেছে দেশবাসী। তাই নতুন ভারত গড়ে উঠবেই।

একই সঙ্গে সভাস্থল মেদিনীপুরবাসীর বন্দনাতেও মুখর হন নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সমাজ-সংস্কার-স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ সবতেই  এই জেলার মানুষের বিশেষ অবদান রয়েছে। বাংলার পরিবর্তনেও মেদিনীপুর অবদান রাখবে, এ কথা অনস্বীকার্য।


শেয়ার করুন
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment