অন্যান্য 

পরিবেশ সংরক্ষনে হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)-এর আদর্শ

শেয়ার করুন
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শেখ হারুন অল রসিদ : পরিবেশ মানুষ বাঁচার উপাদান । সুস্থ প্রাণীর জন্য, প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ। অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান এবং চিকিৎসা মানুষের মৌলিক চাহিদা, যেগুলি পরিবেশের মৌলিক উপাদান । সুতরাং পরিবেশ দূষিত হলে মানুষের বাঁচা দায়। কিন্ত বর্তমানে বিঞ্জানের চরম উৎকর্ষতায় এবং যান্ত্রিক ও কারিগরির চূড়ান্ত উন্নতির পরিনতি হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়। তাইতো বর্তমান বিশ্বের পরিবেশ বিঞ্জানীরা এ ব্যাপারে সর্তকবানী উচ্চারন করেছেন যে এভাবে পরিবেশ দূষিত হতে থাকলে অচিরেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মানুষ আজ পরিবেশ সংরক্ষনে সোচ্চার হচ্ছে।

এ অবস্থায় বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ)-এর পরিবেশ সংরক্ষন নীতিই দিতে পারে দূষন বিপর্যয় থেকে মহামুক্তি। তিনি ১৪০০ বছর পূর্বে পরিবেশ দূষন মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। যার মাধ্যমে তিনি বাতলে দিয়েছেন পরিবেশ সংরক্ষনের সুষ্ঠ ও সঠিক পদ্ধতি। পরিবেশ আল্লাহর সৃষ্ট রহস্যাবৃত নেয়ামত সমূহের অন্যতম । জীব ও জড় উপাদান সমূহের পারস্পারিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলই পরিবেশ। পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ হতে ওজন স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত পরিবেশ মন্ডলে বিদ্যমান আলো-বাতাস-পানি-মাটি-বন-পাহাড়-নদী-সাগরসহ গোটা উদ্ভিদ ও জীবের সমন্বয়ে সৃষ্টি হয়েছে পরিবেশ।

পরিবেশ কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দান নয়। বরং তা হচ্ছে আল্লাহর কুদরত ও হেকমতের বিস্ময়কর এক অনন্য সৃষ্টি। যা নিয়ে মানুষ যুগ যুগ ধরে চিন্তা করেছে , গবেষনা করেছে। আধনিক যুগে যাকে পরিবেশ বিঞ্জান বলে। পরিবেশ দুই ধরনের। একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ অন্যটি সামাজিক পরিবেশ। তাই পরিবেশ দূষণ প্রক্রিয়া দুইটি । একটি  প্রাকৃতিক যার পরিশোধনের ব্যবস্থাও রয়েছে প্রকৃতিগত ভাবে। যেমন মানুষ নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ছেড়ে প্রকৃতিকে দূষিত করছে। অন্যদিকে প্রকৃতি নিজেই বৃক্ষরাজির মাধ্যমে এই কার্বনকে গ্রহন করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে। দ্বিতীয়টি মানব সৃষ্টি প্রক্রিয়া । যেমন, (১) পারমানবিক বর্জ্য,(২) রাসায়নিক বর্জ্য (৩) কল কারখানার বর্জ্য (৪) গাড়ির কালো ধোঁয়া (৫) গাছ কাটা ও বন নিধন করা (৬) যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা,মলমূত্র ত্যাগ করা (৭) পলিথিনের ব্যবহার প্রভৃতি ।

এই দূষন ক্রিয়ার অনিবার্য ও প্রতিক্রিয়ার নাম হল গ্রীন হাউজ এফেক্ট। দূষনের কারনে পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে উঠবে । ফলে মিথেন ফ্লোরা ও কার্বন জাতীয় গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী বিষাক্ত গ্যাস সমূহ জমা হয়ে বায়ু মন্ডলের ওজোন স্তর ক্ষয় হবে । যার দরুন পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। ফলে বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

বিঞ্জানীরা এ ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন যে, এভাবে পরিবেশ ও আবহাওয়া দূষিত হতে থাকলে সমগ্র পৃথিবী তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলবে। ফলে পৃথিবী আপন কক্ষ পথ থেকে লাইনচ্যুত হয়ে অন্য গ্রহের সাথে সংঘর্ষ ঘটিয়ে মহা বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

ঞ্জান-বিঞ্জানের চরম বিকাশের অনেক আগেই হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) পরিবেশ দূষন অনুভব করেছিলেন। বিপর্যয় সৃষ্টির অনেক আগেই তিনি এ ব্যাপারে সম্যক ঞ্জাত ছিলেন। তাই পরিবেশ সংরক্ষন ও দূষন মুক্ত রাখতে তিনি এক যুগান্তকারী ঘোষনায় বলেন ; কোনো মুসলমান যদি বৃক্ষ রোপন করে অথবা ফসল আবাদ করে এবং তা থেকে কোন পাখি বা মানুষ অথবা চতুস্পদ জন্তু ভক্ষন করে, তবে তার জন্য সাদকা এবং দানরূপে গন্য হবে। নবী করিম(সাঃ) আরও বলেছেন, তুমি যদি নিশ্চিত ভাবে জানো যে , কেয়ামত এসে গেছে,তথাপি তোমার হাতে যদি একটি গাছের চারা থাকে , তবে সেই চারাটি রোপন করে দিবে।

পারমানবিক,রাসায়নিক ও শিল্প বর্জ্য সম্পর্কে বিশ্বনবী(সাঃ)-র নীতি হল,যে সব বস্তু মানব জাতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী ক্ষতিকারক এবং উপকারের চেয়ে অপকারের সম্ভাবনা বেশী,এইসব বস্তু উদ্ভাবন,তৈরী এবং ব্যবহার সম্পূর্ন নিষিদ্ধ । তাই পারমানবিক ও রাসায়নিক কর্মসূচি পরিহার করাই হল বিশ্বনবী(সাঃ) কর্তৃক প্রদর্শিত সংরক্ষন পদ্ধতি । আর তা এককভাবে কোনো দেশ জাতি ও গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী একই সাথে মহানবী(সাঃ)-র নীতি ও আদর্শ গ্রহন ও বাস্তবায়ন । তাহলেই সম্ভব হবে মানব জাতিকে অকাল ধ্বংসের কবল থেকে কিছু সময়ের জন্য রক্ষা করা এবং স্বস্তির সাথে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া।

                                                                                              লেখক :প্রধান শিক্ষক, সাতঘরা হাই মাদ্রাসা(উঃমাঃ)।


শেয়ার করুন
  • 42
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment