অন্যান্য 

নিজামউদ্দিনে অজিত দোভাল , নেপথ্য রহস্য কী ? জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : করোনা ভাইরাস এখন আর মারণ ভাইরাস শুধু নয় , এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে নিজামউদ্দিনের বাংলাওয়ালি মসজিদের তবলিগ মারকাজের নাম । সুতরাং কিছু গণমাধ্যম একে করোনা জিহাদ বলে অভিহিত করছে । আর দেশের অধিকাংশ সংবাদ-মাধ্যম এমনভাবে তবলিগ জামাতকে নিয়ে খবর করছে যাতে মনে হচ্ছে সব কিছুর জন্য তবলিগ জামাতই দায়ী । সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে । কেউ তবলিগের পক্ষে সওয়াল করছেন , আবার কেউ তবলিগকেই সব কিছুর জন্য দায়ী করছেন । বিস্ময়ে ব্যাপার হল , তবলিগ জামাতের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানুষগুলি যদি সত্যিই করোনা সংক্রমণে  আক্রান্ত হত তাহলে সময়ের বিচারে তাঁদের কারও পৃথিবীতে ওই সংক্রমণ নিয়ে হিল্লি দিল্লি করার মত শারীরিক ক্ষমতা থাকত না । কিংবা যেভাবে সংবাদ মাধ্যম প্রচার করছে যে , তবলিগ জামাতের ওই ইসতেমার ফলে ৯ হাজার মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার আশংকা আছে তা কী সঠিক ? মিথ্যাচারের একটা সীমা থাকা উচিত । চিকিৎসকদের হিসাব মত কোনো ব্যক্তির শরীরে করোনা ভাইরাস প্রবেশ করলে তা ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পেয়ে যাবে । আর যা হবার এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত এই ১৪ দিনের মধ্যেই হবে । আমাদের রাজ্যে যে কয়েকটি করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে যারা মারা গেছে কিংবা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন সেটা ঘটেছে ১৪ দিনের মধ্যেই । সুতরাং যারা নিজামউদ্দিন নিয়ে হইচই করছে তারা আসলে একটি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভিত্তিহীন প্রচার করে চলেছে ।

আর এই সহজ সত্য কথাটি কেন্দ্র স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে শুরু করে সবাই বুঝতে পেরেছে বলে আমার মনে হয়েছে । করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে নিজামউদ্দিনের মারকাজকে টার্গেট করায় আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে । আর এতে যে ক্ষতি হয়েছে তার ফল আগামী দিনে দেখা যাবে । এতদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলে সিএএ ও এনআরসি এবং কাশ্মীর নিয়ে ভারত অনেকটাই ব্যাকফুটে ছিল । করোনা ভাইরাস মোকাবিলাকে সামনে রেখে ভারত বিশ্বে নিজেদেরকে জাহির করার সুযোগ পেয়েছিল । কিন্ত নিজামউদ্দিনের বিষয়টি নিয়ে যেভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছে তাতে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে ভারতের সম্মান আরও কমে গেছে । কারণ এটা মনে রাখতে হবে নিজামউদ্দিনের মারকাজ আসলে আন্তর্জাতিক সংস্থা । এখানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর মানুষ এসে থাকে । এটা একদিনের কিংবা কয়েক বছরের সংস্থা নয় । ৯৫ বছর ধরে এই সংস্থাটি কাজ করে আসছে । আন্তর্জাতিক সংস্থার কেন্দ্রীয় অফিস হওয়ার কারণে ভারতও মুসলিম বিশ্বে নিজেদেরকে সম্মানের আসনে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে ।  আমাদের প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রগুলির তুলনায় ভারতকে মুসলিম জাহান যে বেশি গুরুত্ব দেয় তার নেপথ্যেও তবলিগ জামাতের ভূমিকাকে অস্বীকার করা যাবে না। সুতরাং তবলিগ জামাত নিয়ে যত বেশি আমাদের দেশের মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার চালাবে ততই দেশের সম্মান আরও বেশি করে হারাবে ।

আর দেরিতে হলেও মোদী সরকার বিষয়টি বুঝতে পেরেছে । তাই দিল্লির পুলিশ কমিশনার নয় , স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর অধীনে থাকা নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন । যারা গেল গেল রব তুলছেন আবার কেউ বলছেন মারকাজ প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ সাদ নাকি পালিয়ে গেছেন বা আত্মগোপন করে আছেন । এটা যে বিশ্বাসযোগ্য নয় , তার প্রমাণ মঙ্গলবার গভীর রাতে অজিত দোভাল বৈঠক করেন মারকাজ প্রধান মাওলানা সাদ সাহেবের সঙ্গে । আচ্ছা অজিত দোভাল কখন নামেন ? যে সময় সমস্যা গভীরে পৌছে যায় তখনই দোভালকে নামানো হয়ে থাকে । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশেই তিনি নেমেছেন বলে আমার মনে হয় ।

কেন্দ্র সরকার মারকাজ নিয়ে যদি কড়া অবস্থান নিত তাহলে দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে পাঠিয়ে জোর করে মসজিদ বন্ধ করে দিত আর রাতেই মাওলানা সাদকে গ্রেফতার করা হত । তা এখনও করা হয়নি । তাহলে প্রশ্ন কেন করা হল না ? ( বাকি অংশ আগামী কাল ) ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment