প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল, লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছিল পুলিশ দাবি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের
নির্বাচনে লড়াই করার জন্য নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আর মুক্তি পেয়েই তিনি দাবি করলেন, প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। এমনকি, লোভনীয় প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। প্রস্তাব দিয়েছিল খোদ পুলিশ!
নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, তাঁরা ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালের পুরনো খুনের মামলায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে। হাই কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবার জেল থেকে বেরিয়েছেন মিলন। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অপহরণের’ অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ, পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বিজেপি থেকেই।
মিলনের দাবি, গত ১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীপুর থেকে সাদা পোশাকের পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। চোখ বেঁধে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় মন্দারমণির কোনও হোটেলে। সেখানেই প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয় কংগ্রেস প্রার্থীকে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। মিলনের কথায়, ‘‘আমি প্রচারে ব্যস্ত ছিলাম। সারা দিন প্রচারের পর চণ্ডীপুরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ সিভিল পোশাকে পুলিশ এসে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেল। গাড়িতে গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। তবে আন্দাজে বুঝেছি, মন্দারমণির দিকে নিয়ে গিয়েছিল আমাকে। লিফ্টে করে হোটেলের একটা ঘরে নিয়ে গেল, তখনও আমার চোখ বাঁধা। সেখানেই আমাকে বলা হল, কী চাই বলুন। যা চান, কালকের মধ্যে পেয়ে যাবেন। শুধু প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নিন।’’
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মিলন আরও বলেন, ‘‘ওখানে আইপিএস ছিলেন, ডিএসপি ছিলেন। আমি বলেছি, আমি আদর্শের জন্য রাজনীতি করি। এই কাজ করতে পারব না।’’ এর পর আবার চোখ বেঁধে রাত ২:৩০-৩টে নাগাদ তাঁকে চণ্ডীপুরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়, দাবি মিলনের। তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মতামত জানার জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহাকে ফোন করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি ফোন কেটে দেন। নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয় কুমার মিশ্রও ফোন ধরেননি।
মিলনের দাবি, তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি ভেবেছিলেন তাঁকে মেরেই ফেলা হবে। কেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মিলন। তাঁর কথায়, ‘‘হাসিরানি একজন মা। মাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু বিজেপি এখানে বহিরাগতকে প্রার্থী করেছে। কেন? এখানকার কোনও ভূমিপুত্র কি ওই টিকিটের যোগ্য ছিলেন না। বিজেপির অনেকেই এতে ক্ষুব্ধ। লাশের উপর দাঁড়িয়ে এখানে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। ১০ জন এখনও নিখোঁজ। কেন এখানে অকাল নির্বাচন হচ্ছে? কারণ নন্দীগ্রামকে উনি (শুভেন্দু) ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এখানকার মানুষ এখনও পুকুরের জল খায়।’’ শুভেন্দুর চেষ্টায় কয়েকটি ঢালাই রাস্তা ছাড়া নন্দীগ্রামে কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী।
মিলনের অন্তর্বর্তী জামিনের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। তাতে কোনও লাভ হবে না বলে দাবি কংগ্রেসের। মিলন জানিয়েছেন, এটি মিথ্যা এবং সাজানো মামলা। তবে শুভেন্দুর মন্তব্য উল্লেখ করে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যদি বলেন কী ভাবে ভোট করাতে হয় আমরা জানি, সেটা কিন্তু হুমকি। গণতন্ত্রকে আমাদের রক্ষা করতে হবে।’’
তিন সপ্তাহের জন্য মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে আদালত। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেই হলদিয়া আদালতে গিয়ে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ ছাড়া, সকাল সাড়ে ৮টা ও সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় সংশ্লিষ্ট থানায় ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আগামী ২১ অক্টোবর এই মামলা ফের শুনবে হাই কোর্ট।

