দেশ 

পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, শেষ কথা বলবে রাজনৈতিক দলই : সুপ্রিম কোর্ট

শেয়ার করুন

পরিষদীয় দলের বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, দলত্যাগের আইনি বিচার কিংবা প্রতীকের লড়াইয়ে মূল রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণই শেষ কথা। শিবসেনার (Shiv Sena) ভাঙন এবং প্রতীক দখল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এমনই অর্থবহ মৌখিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, আইন অনুসারে পরিষদীয় দলের চেয়ে মূল সংগঠনের হাতই বেশি শক্ত। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সর্বভারতীয় রাজনীতির পাশাপাশি বাংলায় ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত-শিবিরে’র আইনি লড়াইয়ের আবহে এক নতুন জল্পনার জন্ম দিল।

মহারাষ্ট্র বিধানসভায় একনাথ শিন্ডে (Eknath Shinde) শিবিরের আত্মপ্রকাশের পর সম্প্রতি লোকসভাতেও উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গ ছেড়ে শিন্ডে গোষ্ঠীতে যোগ দেন একাধিক সাংসদ। এর পরই সংবিধানের দশম তফসিল অমান্য করার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন উদ্ধব শিবিরের নেতা সুনীল প্রভু। মহারাষ্ট্রের স্পিকার কেন দলবদলু বিধায়কদের পদ খারিজ করেননি, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন শিবসেনার নাম ও ‘ধনুক-বাণ’ প্রতীক শিন্ডে শিবিরকে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পৃথক মামলা দায়ের করেন স্বয়ং উদ্ধব ঠাকরে।

বুধবার শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আইন অনুসারে রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণ পরিষদীয় দলের থেকে বেশি। পরিষদীয় দলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তই হবে শেষ কথা।” আদালত মনে করিয়ে দেয়, পরিষদীয় দল স্বাধীন ভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারা আসল দল, তা বিচারে পরিষদীয় দলের অবস্থানই একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। এ দিন বিচারপতি বাগচী স্পষ্ট মন্তব্য করেন, “পরিষদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিচার করে ভুল করেছে নির্বাচন কমিশন। সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত রাজনৈতিক দল দেখে।”

উদ্ধব ঠাকরেদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, দলের সংবিধানের বৈধতা নির্ধারণ করা কমিশনের কাজ নয়। একনাথ শিন্ডে-সহ ৩১ জন বিধায়কের দলবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যে ভাবে জনপ্রতিনিধিরা দল বদলে সরকার ফেলে দিচ্ছেন, তা সংবিধানের মূল কাঠামোর বিরোধী।” প্রধান বিচারপতি কমিশনের গাইডলাইন নিয়ে প্রশ্ন তুললে সিব্বল জানান, প্রতীক বস্তুত মূল রাজনৈতিক দলেরই সম্পদ। এ দিন শীর্ষ আদালত ইঙ্গিত দেয়, পরিষদীয় শক্তির বিচারে চিহ্ন বরাদ্দ করা ভুল পদক্ষেপ ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।

শীর্ষ আদালতের এই দৃষ্টিভঙ্গি মুহূর্তেই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে। কারণ, বর্তমানে বাংলাতেও ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Logo) ব্যাটন কার হাতে— তা নিয়ে কালীঘাটপন্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবিরের সঙ্গে লড়াই চলছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরের।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ