দেশ 

‘‘বাচ্চাদের ক্ষমা চাওয়ানোর জন্য চাপ দেওয়া চলছে মহিলাদের বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার পর বলা হচ্ছে, ক্ষমা করে দেওয়া হল। এই রাজনীতি ননসেন্স।’’ : রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

আন্দোলন করা পড়ুয়াদের ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নয়ডার ১৫ বছরের এক কিশোরী ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কিন্তু রাজ্যে রাজ্যে পড়ুয়াদের বাড়িতে ‘গুন্ডা’ পাঠিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো হচ্ছে বলে বুধবার তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, চাপ দিয়ে ক্ষমা চাওয়ানো এবং তার পর তা গ্রহণ করার রাজনীতি পুরোপুরি ‘ননসেন্স’।

বুধবার দিল্লির ১০ জনপথের বাসভবনে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। তার পর বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কংগ্রেস নেতা। পাশে ছিলেন পাঁচ প্রতিবাদীও। রাহুলের কথায়, ‘‘বাচ্চাদের ক্ষমা চাওয়ানোর জন্য চাপ দেওয়া চলছে। নানা ভাবে পড়ুয়াদের হেনস্থা করা হচ্ছে। মহিলাদের বাড়িতে গুন্ডা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তার পর বলা হচ্ছে, ক্ষমা করে দেওয়া হল। এই রাজনীতি ননসেন্স।’’

বিক্ষোভকারী পড়়ুয়াদের উদ্দেশে রাহুলের পরামর্শ, ‘‘তোমরা ক্ষমা চাইবে না। তোমরা কোনও ভুল করোনি। তোমরা দেশের সংবিধান, শিক্ষাব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে নেমেছ। সাংবিধানিক মূল্যবোধ থেকেই আমরা তোমাদের পাশে রয়েছি।’

তরুণ প্রজন্মের উত্তাল আন্দোলনে মাথা ঝোঁকাতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। আন্দোলনের চাপে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে ইস্তফা দিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কোনও আন্দোলনের চাপে কোনও মন্ত্রীর ইস্তফার ঘটনা মোদীর ১২ বছররের শাসনে এই প্রথম ঘটল দেশে। রাহুলের পাশে দাঁড়ানো প্রতিবাদী পড়ুয়ারাও তাঁদের কথা বলেন। ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সময়ে মুম্বইয়ের রাস্তার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছিল সমাজমাধ্যমে। যেখানে দেখা যাচ্ছিল, এক তরুণী প্রিজ়ন ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে তা আটকে দিয়েছেন। তার পর প্রিজ়ন ভ্যান থেকে মুক্ত হচ্ছেন পড়ুয়ারা। সেই রিয়া আহেরিও ছিলেন রাহুলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন, আমি মুম্বই পুলিশকে আটকে দিয়েছি। না। আমি ২০ জন নিরপরাধ পড়ুয়াকে মুক্ত করেছি। ভাষ্য বদলান, চিন্তা বদলান।’’

মুসকান শর্মা নামের এক তরুণী বলেন, ‘‘আমার নাম শুনেই সবাই মুসলিম বলে দাগিয়ে দিচ্ছে। আসলে আমার পদবি যে শর্মা, সেটা কেউ শুনছে না। আমি তো এটা বুঝতে পারছি না, শিক্ষাব্যবস্থার ফাঁক নিয়ে কথা বললে হিন্দু-মুসলমান প্রসঙ্গ আসছে কোথা থেকে?’’ উত্তরপ্রদেশের পড়ুয়া ফারহানের অভিযোগ, ‘‘আমার নাম দেখে ধর্ম চিহ্নিত করে পুলিশ আলাদা তালিকা করেছিল।’’ এক প্রতিবাদী প্রশ্ন তোলেন, ‘‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চাইতেই পড়ুয়াদের এ ভাবে পেটানো হল, পেলেট গান মারা হল। অমিত শাহের ইস্তফা চাইলে তো গুলি করে দিত!’’

১৩ মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল খুব বেশি বলেননি। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন প্রতিবাদী পড়ুয়ারাই। তবে মোদী এবং শাহের উদ্দেশে রাহুলের প্রশ্ন, ‘‘প্রতিবাদীরা সারা দেশের সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির। মোদী-শাহ কোথায়?’’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ