জেলা 

মালদহ থেকে উদ্ধার ৯ হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ ও কোটি কোটি টাকা,গ্রেফতার ৩

শেয়ার করুন

ভোর ৪টে পর্যন্ত মালদহের মঙ্গলবাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাল পুলিশ। যন্ত্র দিয়ে গোনা হল বান্ডিল বান্ডিল টাকা। সঙ্গে ন’হাজার বোতল কাশির নিষিদ্ধ সিরাপও মিলেছে বলে খবর। রাতভর অভিযানের পর তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সোমবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হতে পারে। নিষিদ্ধ সিরাপের কারবারের সঙ্গে ওই তিন জন যুক্ত বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ বছর বয়সি পিন্টু সরকার, ৩২ বছর বয়সি গোপাল চাকি এবং ৩০ বছর বয়সি সুশান্ত হালদার। প্রত্যেকেরই বাড়ি মালদহ থানা এলাকায়। রবিবার রাতে মঙ্গলবাড়িতে মালদহ এবং দক্ষিণ দিনাজপুর থানার পুলিশের স্পেশাল অপারেশন টিম যৌথ ভাবে হানা দেয়। একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ‘টাকার পাহাড়’। নগদের পরিমাণ কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে অনুমান করে রাতেই সেখানে টাকা গোনার যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। ভোর ৪টে পর্যন্ত গণনা চলেছে। পাওয়া গিয়েছে ২ কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। এ ছাড়াও ২০ গ্রাম সোনা এবং একটি ল্যাপটপ সেখান থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পরেই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মালদহের খইহট্টা এলাকার একটি গুদামঘরেও রাতে হানা দিয়েছিল পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ন’হাজার বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। তার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। অভিযোগ, ওই সমস্ত সিরাপে নিষিদ্ধ মাদক ছিল। সূত্রের খবর, গত মাসে দক্ষিণ দিনাজপুরের মেহেন্দ্রিপাড়ায় ১৫০০ বোতল সিরাপ আটক করেছিল পুলিশ। চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদহের এই কারবারের হদিস মেলে।

এ বিষয়ে বুনিয়াদপুরের এস ডি পি ও শুভতোষ সরকার বলেন, ‘‘তিন জন গ্রেফতার হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মতো পেয়েছি। মাদকদ্রব্য ছিল ওঁদের কাছে, এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। টাকা, সোনা এবং সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আরও কেউ এর সঙ্গে জড়িত কি না, দেখার চেষ্টা করছি। তদন্ত এখন প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’ গভীর রাতে পুলিশি অভিযানে আতঙ্কিত এলাকাবাসী। স্থানীয় এক জন বলেন, ‘‘কাল থেকে আমরা চিন্তায় আছি। কিছুই বুঝতে পারছি না। শুনলাম এখানে দু’নম্বরি কাজ হয়। ওটা গুদাম না গ্যারাজঘর, বুঝতে পারি না। এত নিষিদ্ধ সিরাপ ওখানে ছিল জানতাম না। কোনও দিন কিছু টের পাইনি।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ