সাহিত্যিক প্রেমচাঁদ জন্মজয়ন্তী উদযাপন
সালমা সিরাজ : যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হোলো মহান কথাসাহিত্যিক মু্ন্সি প্রেমচাঁদের জন্মদিন ৩১ জুলাই। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং শহরে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো হিন্দি ও উর্দু ভাষার বিশিষ্ট কথাশিল্পী মুন্সি প্রেমচাঁদের ১৪৬ তম জন্মদিন। অনুষ্ঠানের আয়োজক সৃজন সাংস্কৃতিক সংস্থা, ক্যানিং। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল প্রেমচাঁদের জীবনী, তাঁর লেখা গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা, কবিতা পাঠ এবং সঙ্গীত পরিবেশন।
ক্যানিং এর উদয়ন ভবনে প্রেমচাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করে, আয়োজক সংস্থার সম্পাদক তনয় দেবনাথ তাঁর উদ্ধোধনী বক্তব্যে বলেন, আজ ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুত্বের ফ্যাসিস্ট আগ্রাসন, ‘দলিত’ ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন এবং তার সঙ্গে অন্ধভক্তি ও গুরুবাদ যখন হিন্দি বলয় ছড়িয়ে আমাদের বাংলাকেও গ্রাস করছে, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি প্রেমচাঁদের মতো সেই হিন্দি বলয়েরই একজন সমাজ-সচেতন, শ্রেণী-সচেতন কথা সাহিত্যিকের শিল্পকর্মের অনুপুঙ্খ চর্চা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
সেই প্রাসঙ্গিকতা অনুধাবন করেই আজ আমরা প্রেমচাঁদ জয়ন্তী উদযাপনের আয়োজন বলে প্রারম্ভিক ভাষণে বিবৃত হয়।
ধনপত রায় শ্রীবাস্তব (৩১জুলাই,১৮৮০ – ৮ অক্টোবর, ১৯৩৬), যিনি কিছুদিন উর্দুতে নবাব রায় ছদ্মনামে লিখতেন, প্রেমচাঁদ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন, মুন্সি তাঁর প্রাপ্ত সম্মানসূচক উপাধি। প্রেমচাঁদের ছোটগল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও নাটক তথা সমগ্র সাহিত্যকর্মের রচনাকাল মোটামুটি ১৯০৯ থেকে ১৯৩৬ সাল। নিজের কঠিন কঠোর জীবনযুদ্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং রুশ অক্টোবর বিপ্লব প্রেমচাঁদের শ্রেণী ও সমাজ সম্পর্কে চেতনা বৃদ্ধিতে, মতাদর্শগত ও রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করতে এবং লেখনীকে আরও ধারালো করতে বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।
ব্রিটিশ ভারতে সামন্ততন্ত্রের গড় উত্তর প্রদেশে ‘শুদ্র’ ও দরিদ্র কৃষক ও দিনমজুরদের ওপর জমিদার, মহাজন, সরকারি আমলা ও পুলিশের নির্মম শোষণ, নিষ্পেষণ ও জুলুমবাজির চিত্র তিনি নিখুঁতভাবে অঙ্কন করেছেন, সাথে সাথে তাদের দুর্দশা কিছুটা লাঘব করতে সাধ্যমতো রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রয়াস চালিয়েছেন।
প্রেমচাঁদের কয়েকটা প্রবন্ধ ও উল্লেখযোগ্য কিছু ছোটগল্প যেমন সদগতি, মন্দির-মসজিদ, জরিমানা, সতরঞ্জ কা খিলাড়ি, কয়েদী, তামাশা, যুদ্ধযাত্রা, বলিদান, দেশদ্রোহী, পাসোনিয়ামের মা, ঈদগাহ, কবর প্রভৃতি নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা রাখেন শিবানী দাশ। গালিব ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনে সংখ্যালঘুদের যে জীবন-যন্ত্রণা তার বহুমুখী অভিব্যক্তি তুলে ধরেন এবং প্রেমচাঁদের গল্প -উপন্যাস থেকে সেই যন্ত্রণা লাঘবের দিশা সন্ধান করার পরামর্শ রাখেন।
প্রেমচাঁদের প্রবন্ধ এবং ‘গোদান’ (১৯৩৬) ও অন্যান্য উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করেন চিত্তরঞ্জন দাশ। আলোচনায় তিনি সমকালীন বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে প্রেমচাঁদের সাহিত্যকর্মের একটি তূলনামূলক বিশ্লেষণও রাখেন।
অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন সবিতা মণ্ডল, কুমারেশ নস্কর, গোপাল দেবনাথ ও শিবানী দাশ। সংগীত পরিবেশন করেন তনয় দেবনাথ ও শ্যামল চক্রবর্তী।
সমগ্র অনুষ্ঠান সংস্থার পক্ষে পরিচালনা করেন গোপাল দেবনাথ।

