সিজেপি-র ডাকে সংসদ ভবন অভিযানের দিন অন্তত সাত রাউন্ড ছর্রা গুলি চালান এক জওয়ান! রিপোর্ট সামনে আসতেই দেশজুড়ে চাঞ্চল্য
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকে সংসদ ভবন অভিযানের দিন অন্তত সাত রাউন্ড ছর্রা গুলি বা পেলেট গান চালিয়েছিলেন র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের এক জওয়ান। তার মধ্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি লাগে আন্দোলনকারীদের গায়ে। আর দু’রাউন্ড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাটিতে গিয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই জানতে পেরেছে সিআরপিএফ। এই খবর প্রকাশ্যে এনেছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। সিআরপিএফ-এর তরফে এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, সিআরপিএফ জানতে পেরেছে যে, র্যাফের ওই জওয়ান গত ২০ জুলাই সিজেপি-র সংসদ অভিযানের দিন দিল্লির কনট প্লেসের কাছে নিরাপত্তারক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। সিআরপিএফ-এর ময়নাতদন্তে উঠে এসেছে যে, আন্দোলনকারীদের একাংশ হঠাৎই নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করলে ওই জওয়ানপাল্টা ছর্রা গুলি চালাতে থাকেন।
ছর্রা গুলির ঘায়ে মোট কত জন আহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ছর্রা গুলির ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন জন। তাঁরা হলেন বছর পঁচিশের ইরশাদ শেখ, বছর উনিশের সাহিল লোচাব এবং একটি ইংরেজি ম্যাগাজ়িনের ২৮ বছর বয়সি সাংবাদিক।
দিল্লিতে পড়ুয়াদের ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ’ ঠেকাতে কেন ছর্রা গুলি বা পেলেট গানের মতো অস্ত্র ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নিশানা করেছে বিরোধী দলগুলি। গত ২০ জুলাই সিজেপি-র সংসদ অভিযানের সময় দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিআরপিএফ-এর আওতাধীন র্যাফকে। তাদের বিরুদ্ধেই ছর্রা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে র্যাফের যে সূত্রকে উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এক জন জওয়ানই প্রতিবাদীদের ঠেকাতে ছর্রা গুলি ব্যবহার করেছিলেন।
এই প্রসঙ্গে সিআরপিএফ-এর ডিজি জ্ঞানেন্দ্রপ্রতাপ সিংহ বলেন, “প্রতিবাদ-আন্দোলন থেমেছে। যাঁরা জমায়েত করেছিলেন, তাঁরা চলে গিয়েছেন। আমরা পেশাদারিত্বের খাতিরেই পুরো বিষয় খতিয়ে দেখছি। যেমন, আমরা ভবিষ্যতে আরও কী কী করতে পারি। আমাদের সদর দফতরের তরফে কী বলা হচ্ছে, সেটা আপনাদের পরে জানাতে পারব।”
এর আগে র্যাফের আইজি সীমা ধুন্ধিয়ার পর্যবেক্ষণ উদ্ধৃত করে ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছিল, আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে বাহিনীর মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন র্যাফ সদস্যদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে অবহিত করেননি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন র্যাফের আইজি। তা ছাড়া, দিল্লির কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও আঞ্চলিক সদর দফতরকে কিছু জানানো হয়নি বলে বৈঠকে জানান তিনি।
অভ্যন্তরীণ বৈঠকে র্যাফের আইজি জানান, পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহিনীর কোনও সদস্য পেলেট গান, বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। বাহিনীর অনেক সদস্যের মাথায় হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাকবচ না-দেখে উষ্মাপ্রকাশ করেন তিনি।

