দেশ 

ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে চাইলেও নরেন্দ্র মোদী ও বিজেপি ভেবেছিল আন্দোলন সামলে নেওয়া যাবে! কিন্তু ছাত্র যুব সম্প্রদায়ের উত্তাল আন্দোলনে মাথা নত করতে বাধ্য হলো কেন্দ্র!

শেয়ার করুন

নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে দিল্লিতে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়তেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফার জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সূত্রের খবর, দু’বার পদত্যাগ করতে চেয়ে নেতৃত্বের কাছে দরবারও করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ইস্তফার আর্জি নাকচ করে দেয় সরকার। প্রাথমিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, চাপের মুখে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া যাবে না। তাহলে জনমানসে ভুল বার্তা যেতে পারে।

নিট-বিক্ষোভে প্রথম থেকেই আন্দোলনকারীরা দাবি করেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের দায় মাথায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তরফে এ ছাড়াও দু’টি দাবি রাখা হয়েছিল সরকারের সামনে— প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের কারও বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার নিশ্চয়তা। কেন্দ্রের তরফে মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দু’টি বৈঠক হয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবি সরকার মেনে নিয়েছিল। সমস্যা ছিল প্রথম দাবিটি নিয়ে। এর মধ্যে গত ২০ জুলাই সিজেপি দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেয়। ১০ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত করেছিলেন সেখানে। মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের পর ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। সূত্রের খবর, সে দিন ইস্তফা দিতে চেয়ে আরও এক বার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেন ধর্মেন্দ্র। সিনিয়র নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। কিন্তু তাঁর ইস্তফা নাকচ করে দেওয়া হয়।

সরকারের তখনও ধারণা ছিল, পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে। সূত্রের খবর, মূলত দু’টি ভাবনা থেকে ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা বার বার নাকচ করা হচ্ছিল। প্রথমত, মন্ত্রীর পদত্যাগের চেয়ে শিক্ষায় সংস্কারের দিকে নজর ঘোরাতে চাইছিল কেন্দ্র। সেখানেই গুরুত্ব দিয়ে পর পর কয়েকটি পদক্ষেপ করা হয়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) থেকে ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করে সরকার। প্রশ্নফাঁস রুখতে খসড়া বিলে অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। তা ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী নিজে দু’বার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়োবার্তার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আশ্বাস দেন। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরির কথা বলেন। তবে তার পরেও চিঁড়ে ভেজেনি। দ্বিতীয়ত, ধর্মেন্দ্রকে বলা হয়েছিল, তাঁর পদত্যাগের অর্থ কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। মোদী সরকার তা করে না। বরং পালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে এই সরকার সমস্যার সমাধানে বেশি আগ্রহী। এই বার্তাই দিতে চাওয়া হয়েছিল।

সিজেপি-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার নড্ডাদের বৈঠকের পরেই ধীরে ধীরে কেন্দ্রের অবস্থান বদলাতে শুরু করে। আন্দোলনকারীরা বুঝিয়ে দেন, কোনও অবস্থাতেই তাঁরা মন্ত্রীর ইস্তফার দাবি থেকে সরবেন না। তা ছাড়া, এ বিষয়ে শীঘ্র সিদ্ধান্ত না নিলে ফের সংসদ ভবন অভিযানের মতো বড়সড় কর্মসূচির আয়োজন করা হবে, হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিজিৎ দীপকে-রা। এর পর আর ঝুঁকি নিতে চায়নি কেন্দ্র।

এর ফলে এটা স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতে চাইলেও বিজেপি নেতৃত্ব এবং মোদি সরকার ভেবেছিল পরিস্থিতি সামলে নেওয়া যাবে। কিন্তু যুব সম্প্রদায়ের উত্তাল আন্দোলন এবং দেশ জুড়ে রাস্তায় নেমে আসা নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে বাধ্য করেছে শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে। মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করতে পারতো কিন্তু তা করা হয়নি কারণ ছাত্র সমাজের দাবি ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে পদত্যাগ করা আর বরখাস্ত করা দুটো তফাৎ রয়েছে। সেই জায়গাতে স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়েছে দেশজুড়ে আন্দোলনের চাপে নরেন্দ্র মোদি পিছু হটলেন এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ