ফলতায় অশান্তি সৃষ্টির দায়ে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী সহ দোষীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ধারায় মামলার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
বাংলার জনরব ডেস্ক : মঙ্গলবার ফলতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশকে যারা আক্রমণ করতে গিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আজ ওই এলাকার জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করার পর পুলিশ এবং প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ফলতার ধৃত তৃণমূল নেতা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এক দল লোকজন। জাহাঙ্গিরের স্ত্রীর নেতৃত্বে তাঁরা থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তবে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার ফলতায় জলকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখান থেকেই তিনি মঙ্গলবারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘টিভিতে দেখলাম এখানে কিছু লোক এক জন মাফিয়ার স্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশ এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে গিয়েছিল।’’ এই ধরনের গুন্ডামি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি। তার পরই শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘এসপি-কে বলে গেলাম, ভিডিয়োতে যত জনকে দেখা গিয়েছে, কেউ যেন বাড়িতে না থাকে। তাঁদের সকলকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’’ শুধু তা-ই নয়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (বিএনএস) রাষ্ট্রদ্রোহের ধারায় মামলা রুজু করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলতায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তার পরই ফলতাবাসীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, যত বড় মাফিয়া বা ডন হোক না কেন, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাদের সবক শেখানোর কাজ করবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।’’ এই সরকার কাউকে ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা হামলা করেছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামে চড়ানো হবে। এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যাতে কোনও দিন কোনও পুলিশ, সরকারি কর্মী এবং আধাসেনাকে আক্রমণ করতে না পারেন।’’
মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় নিয়ে বার হয়েছিল পুলিশ। অভিযোগ, জাহাঙ্গিরকে কেন এ ভাবে কোমরে দ়ড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে, এমন প্রশ্ন তুলে আপত্তি তোলেন কয়েক জন। অবিলম্বে তাঁর মুক্তির দাবিও জানানো হয়। সেই দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আসরে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, বেশ কিছু লোক দৌড়াচ্ছেন। অনেকে আবার পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিজেপি সমাজমাধ্যমে এই ভিডিয়ো পোস্ট করে দাবি করেছে, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর তাড়া খেয়ে পালাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।

