দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি বিজেপির
প্রথমদফার ভোটে দাবি ওঠেনি। কিন্তু বুধবার অর্থাৎ দ্বিতীয়দফার ভোট (WB Assembly Election 2026) মিটতেই ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠল। আর এই বুথের সবগুলিই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। কমিশন সূত্রে খবর, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ, বৃহস্পতিবারই জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। ঠিক কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন, তা নিয়ে ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে আগামী ১ মে বেশ কয়েকটি বুথের জন্য পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ কমিশন জারি করতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কমিশন সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুনর্নির্বাচনের জন্য ৭৭টি দাবি বা অভিযোগ জমা পড়েছে। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ৩২টি। তাও ফলতা থেকে। এরপর রয়েছে ডায়মন্ডহারবার ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩ ও বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়া, কোথাও আবার ইভিএমে আতর লাগিয়ে দেওয়া বা ক্যামেরায় রুমাল চাপা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে তরফে সরকারি ভাবে কিছূ জানানো না হলেও সূত্রের খবর, পুনর্নির্বাচনের অধিকাংশ অনুরোধই এসেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফে।

অন্যদিকে ভোটের অন্তিম লগ্নে বিস্ফোরক অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনে। ভোটারের জামার পকেটে নাকি আটকানো ছিল স্পাই ক্যামেরা! এই মর্মে ভোটাধিকার হরণের একটি অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের কাছে। অভিযোগটি জমা পড়েছে ডায়মন্ডহারবারের মগরাহাট পশ্চিম থেকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভোটারের জামার পকেটে স্পাই ক্যামেরা রাখা হয়েছে। যাতে শনাক্ত করা যায়, ভোটার কোন দলকে ভোট দিচ্ছেন! মারাত্মক এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন। সূত্র মারফত খবর, অভিযোগের সত্যতা থাকলে প্রয়োজনমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশন তলব করেছে।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ এপ্রিল ১৫২টি বিধানসভার ৪৪,৩৭৬টি বুথে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু একটিতেও পুনর্নির্বাচন হয়নি। এমনকী এই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক দল দাবিও জানায়নি। তবে দ্বিতীয়দফায় একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠল। তাও আবার কিনা সবগুলিই দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মা। একেবারে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু এরপরেও বিজেপির তরফে এতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন দাবি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

