চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় বিপর্যয়, মৃত ১৯, আহত ২৫, পাশে থাকার অঙ্গীকার শুভেন্দুর
চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। বাইরে সে সময় ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে। আর তাতেই মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন আহত। আহতদের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েক জন গুরুতর জখম বলে খবর। হাসপাতালে আহতদের দেখতে রাতেই গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান পুজোর আলো। বাহিরপথও বন্ধ। পুজো কমিটির ১২ সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
শনিবার রাতে হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্লাবের সকলকে থানায় ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে পৌঁছেছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, আহতদের ইমার্জেন্সি অবজ়ারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা চলছে। ১১ জনকে এসএসকেএমে স্থানান্তর করা হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের একটি সূত্র জানিয়েছিল, মৃত ১৯ জনের মধ্যে তিন জন পুরুষ, এক জন শিশু এবং ১৩ জন মহিলা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮। মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনুসন্ধান হবে। কারা দায়িত্বে ছিল, তা দেখা হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আনা হবে বলে জানান শুভেন্দু।
উদ্যোক্তা বিকাশ দাস জানিয়েছেন, কী ভাবে এই কাণ্ড তা বোঝা যাচ্ছে না। আপাতত উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই আমাদের প্রাথমিক কাজ। পুলিশ, দমকল ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট কি না, স্পষ্ট নয়।’’
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির ২০২৬ সালের ভাবনা ‘অরব’। ইংরেজি তর্জমায় ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। সেরার সেরা পুজোর তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে এই পুজো। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছোনোর এক বিশেষ বার্তা তুলে ধরেছে এই পুজো। তবে মণ্ডপ দেখতে কেবল শব্দের ভাবনা নিয়ে গেলে ভুল হবে। কারণ ৩৬০ ডিগ্রির ভাবনা নিয়ে এই মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই ঘটেছে বিপত্তি বলে খবর।
এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন দেবদীপ অধিকারী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। জোড়াসাঁকোর বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা এই পুজো কমিটির চেয়ারম্যান। উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত ।
মৃত ১৯ জনের নাম শ্রীপর্ণা পোদ্দার (২৬), মিঠু মণ্ডল (৪৫), আকৃতি কুমারী (১৭), বর্ণালী হালদার (১৭), শুভম শঙ্কর (৩৩), আরতী সরকার বিশ্বাস (৪৫), টগর বেজ (৩৭), তানিয়া বিশ্বাস (১৮), কল্পনা জানা (৪৬), বিকাশ ভট্টাচার্য (৬৬), স্নেহা ভাণ্ডারী (২০), সন্দীপ বেজ (১৪), পিয়ালী প্রামাণিক (২৫), প্রিয়া সমাদ্দার (১৮), প্রাঞ্জল সরকার (১৩)। দিলীপ ঘোষ (৫৯), দিপালী ঘোষ। উল্লেখ্য, দিলীপ ও দিপালী সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। মৃত্যু হয়েছে বিহারের একই পরিবারের দুই সদস্য অভিষেক শ্রীবাস্তব (৩৮) ও আয়াংশ কুমার শ্রীবাস্তবের (৭)।

