কলকাতা 

চোরবাগান বিপর্যয়ে শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, আহতদের দেখতে যাবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

শেয়ার করুন

বন্ধ করে দেওয়া হল চোরবাগানের পুজো। সপ্তমীর রাতে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টালা প্রত্যয়, চেতলা অগ্রণী-সহ কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজো নিয়ে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার। চোরবাগানের মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পরে রবিবারের সব কর্মসূচি বাতিল করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এই বিপত্তির দিনেই তিনি শহরে এসেছেন। সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুঃখ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী-সহ অনেকে।

চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। বাইরে সে সময় ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে। আর তাতেই মণ্ডপের ভিতরে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন আহত। আহতদের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েক জন গুরুতর জখম বলে খবর। তার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় চোরবাগানের পুজো।

এই দুর্ঘটনার দিনেই শনিবার কলকাতা এসেছেন শাহ। রবিবার তাঁর বেশ কয়েকটি কর্মসূচি ছিল। বেলুড় মঠে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেখানে প্রতিমা দর্শন ও পুজো দিয়ে বালির দেশবন্ধু ক্লাবে যাওয়ার কথা ছিল। তার পরে চেতলা ২৪ পল্লি, শোভাবাজার রাজবাড়ি, শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো দেখারও কথা ছিল তাঁরা। কিন্তু সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তিনি এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে রবিবারের সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে যাব। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, আহতেরা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।’’ তিনি জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গেও কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনের তরফে সব রকম সাহায্য করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আনানো হবে। অনুসন্ধান হবে। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগানের পুজো। চেতলা অগ্রণী, অ্যালেন পার্কের পুজোও শনিবার রাতে কিছু ক্ষণের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শোক প্রকাশের ভাষা নেই। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুজো কমিটির বেশ কয়েক জন সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকেদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফে কথা বলা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার।’’

দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে চিকিৎসকেদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস্ ফ্রন্ট। সংগঠনের দাবি, ‘‘চরম গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা জেরেই দুর্ঘটনা। কোনও দুর্গাপুজোয় এই পরিস্থিতি হয়নি।’’ জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে চিকিৎসা, উদ্ধারকার্য-সহ সমস্ত ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে সংগঠন। ওই সংগঠনের অভিযোগ, মণ্ডপে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স ও পুলিশ ছিল না।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ