কলকাতা 

এফআইআরে কেন নাম নেই গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেবের প্রশ্ন তুলল যাদবপুরের ছাত্ররা

শেয়ার করুন

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বুদ্ধদেব সাউকে দেখা গেলেও কেন তাঁর নামে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়নি? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে প্রশ্ন তুলল ছাত্রদের একাংশ। এ দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের বিরুদ্ধে তথ্যপাচারের অভিযোগ তুলে গ্রেফতারি দাবি করেছেন গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউ।

সোমবার স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেখানেই পড়ুয়ারা দাবি তোলে, গত ২০ অগস্ট গভীর রাতে যে ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং ছাত্রাবাসে হামলা চালিয়েছিলেন বহিরাগতেরা তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি তাঁরা গণিতের অধ্যাপক, অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সদস্য বুদ্ধদেব সাউয়ের প্রসঙ্গও তোলেন।

গত ২২ অগস্টই অভিযোগ উঠেছিল, গোটা ঘটনার সাক্ষী ছিলেন বুদ্ধদেব। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছিল ৪ নম্বর ফটকের কাছে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, এমনকি কথাও বলেছিলেন কোনও কোনও এবিভিপি সদস্যের সঙ্গে। পড়ুয়াদের দাবি, যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ওই হামলায় প্ররোচনা দেওয়ার জন্য কেন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে না অধ্যাপকের নামে?

সোমবারই যাদবপুর থানার পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে আসছে। গত শনিবার বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে হামলার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কর্তৃপক্ষ।

এ দিকে গোটা ঘটনায় আরও একবার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলেছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের সদস্যেরা। সোমবার তাঁরা দাবি করেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি বসাতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এই কাজ সেরে ফেলতে হবে। যদিও বাম কর্মী সংগঠন ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংসদ’-এর তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ ফাঁড়ি হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে করা যাবে না। আউটপোস্ট হবে বাইরে।

শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের দাবি, ১৯ অগস্ট কারা সাধারণ সভার আয়োজন করেছিল, তাঁদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ কী ভাবে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমের হাতে পৌঁছোল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সঙ্ঘ। এ নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে বলে তাঁদের দাবি। বুদ্ধদেব সাউ এ দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডলের মাধ্যমে বাইরে ছড়িয়ে গিয়েছে। তথ্যপাচারের অভিযোগে রেজিস্ট্রারকে গ্রেফতার করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।”

পাশাপাশি, বুদ্ধদেব আরও একবার দাবি করেছেন, তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই রাতে তিনি উত্তেজনার খবর পেয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। যেহেতু তিনি ক্যাম্পাসের ভিতরে আবাসনে থাকেন, তাই তিনিই সকলের আগে পৌঁছে গিয়েছিলেন।

দক্ষিণপন্থী পড়ুয়ারা অবশ্য একধাপ এগিয়ে এনআইএ তদন্ত দাবি করেছেন। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “যাদবপুরের প্রতীক ভাঙার ঘটনা এবং ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা দেশবিরোধী পোস্টারের বিষয়ে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে এন আই এ দিয়ে তদন্ত করা হোক।” যদিও তাঁরা এই বিষয়ে কোথাও অভিযোগ জানাননি। সার্বিক দন্তের দাবি জানানো হয়েছে বলে দাবি।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ