‘ধর্মে-ধর্মে বিভেদ করে দেশ টুকরো করছে বিজেপি’! গেরুয়া শিবিরকে তীব্র আক্রমণ যাদবপুরের পড়ুয়াদের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তুলছে শাসকশিবির। এ নিয়ে সরব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। শুক্রবারই সাংবাদিকদের তাঁরা জানিয়েছিলেন বার বার এ ভাবে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দেওয়া তাঁরা মেনে নেবেন না। সে রাতেই পড়ুয়াদের তরফে একটি অভিযোগ দায়ের হয় যাদবপুর থানায়। বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল দাস-সহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এ দিকে, শুক্রবার রাতেই সুর নরম করেছেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। তিনি একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, কে বা কারা মুখে গেরুয়া আবির মেখে বিজেপি সাজার চেষ্টা করছেন। শনিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, যাদবপুরে দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পরিবর্তন চাইছেন তাঁরা। ফলে যা ঘটছে, তা পরিবর্তনের সময় ঘটেই থাকে।
মন্ত্রী বলেন, “যাদবপুর সব সময়ই ব্যতিক্রমী। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। ওখানে যারা আন্দোলন করে তারা ভাবে, এটা ভারতের বাইরে একটা জায়গা। এখানে ভারতের সংবিধান চলবে না, রীতিনীতি, স্লোগান কিছুই ওখানে চলবে না। ওখানে বিদেশি স্লোগান চলবে— এটা তো বেশিদিন চলতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, ঘেরাও আন্দোলনের সংস্কৃতি রক্তে মিশে গিয়েছে। এ দিকে দুনিয়া পাল্টে গিয়েছে। দিলীপের কথায় উঠে আসে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় বা ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “সব পাল্টে গেল, এখানে শেষ লড়াইটা চলছে। দেশবিরোধী গতিবিধি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এখানে। তার পরিবর্তন চাই।”
একই সুরে মন্তব্য করেছিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনও। শুক্রবার তিনি বলেন, “যাদবপুরের ভাবমূর্তি কী, তা গোটা দেশ বা পৃথিবী জুড়ে সকলেই জানেন। ভারতবর্ষকে টুকরো করার কথা বলবে, আর কেউ কিছু বলবেন না সেটা হতে পারে না। যা রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে বোঝা গিয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রতীক এক বিশেষ পক্ষের তরফে ভাঙা হয়েছে। যাঁরা ভেঙেছেন তারাই আজ বড় কথা বলছেন। এটা হওয়া উচিত নয়।”
শনিবার আনন্দবাজার ডট কম-কে আরএসএফ-এর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, “টুকরে টুকরে গ্যাং আসলে আরএসএস-বিজেপি। ওরাই হিন্দু-মুসলমান বিভাজন করে দেশটাকে টুকরো করে ফেলতে চাইছে।” তিনি দাবি করেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চায়, দেশে যেন সবাই সমান ভাবে থাকতে পারে। সেই চেষ্টা করে যেতে হবে। এটাই দেশপ্রেম। যাদবপুর এই নীতিতে বিশ্বাসী।
ডিএসও-র যাদবপুর ইউনিটের সভাপতি শুভাশিস জানা বলেন, “বিজেপি-আরএসএস চায় না প্রকৃত গণতন্ত্র বজায় থাকুক। কারণ, সুস্থ গণতন্ত্রে শাসক বিরোধিতা থাকবেই। যাদবপুরের ইতিহাস বরাবর গণতন্ত্রের পক্ষে, অগণতন্ত্রের বিরুদ্ধে। শাসক কখনওই বিরোধী স্বর সহ্য করতে পারে না। তাই বার বার যাদবপুরের উপরই আক্রমণ আসে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই— ব্রিটিশ বিরোধিতা যাদবপুর করেছিল, আপনারা নয়।”
এসএফআই-এর তরফে যাদবপুরের স্নাতকোত্তর ছাত্র অঞ্জিল দাস বলেন, “যারা আমাদের দেশবিরোধী বলে, আসলে তারাই দেশবিরোধী। তারা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটই জানেন না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীদের কৃতিত্বে ভারতে চন্দ্রযান অভিযান হবে। তাতে হাততালি পাবেন প্রধানমন্ত্রী, আমরা হব দেশবিরোধী? আসলে আপনারাই দেশদ্রোহী। মনে রাখবেন, আপনাদের আছে নাথুরাম, আমাদের ক্ষুদিরাম।”
আইসা-র তরফে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সৌমিলি দাস বলেন, “বিজেপি মনে করে তারাই দেশ, তাই তাদের বিরোধিতা মানেই দেশের বিরোধিতা। শিক্ষার উপরে হামলার বিরোধিতা করলে যদি দেশের বিরোধিতা করা হয়, তা হলে আমরা তা-ই। বিজেপি সরকারের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেই যদি রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়, তবে আমরা রাষ্ট্রদ্রোহী।’’

