পাহাড় সমস্যার সমাধানে কমিটি করলেন অমিত শাহ!
পাহাড়ের উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানে অমিত শাহের সঙ্গে বিমল গুরুং, রোশন গিরিদের দীর্ঘ সময় বৈঠক। দার্জিলিংয়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্কৃতি, পর্যটনে কীভাবে পদক্ষেপ হবে? গোর্খাল্যান্ড ইস্যু আগামী দিনে কী হবে? সেই চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম দার্জিলিংয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হল। পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ‘শাহী নকশা’ তৈরি হল। গঠিত হল স্থায়ী কমিটিও।
উত্তরবঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ, শনিবার বেলায় দার্জিলিংয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়। এই প্রথম পাহাড়ের উন্নয়নে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হল বলে প্রাথমিক খবর। এদিনের বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। দীর্ঘ সময় ধরে গোর্খাল্যান্ড ইস্যুতে পাহাড়ে আন্দোলন চলেছে। অতীতে রক্তপাতও দেখেছে পাহাড়। এবার বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির জোটসঙ্গী ছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। পাহাড়ে বিজেপির জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন গোর্খা নেতা বিমল গুরুং। এমনই মনে করেছেন রাজনৈতিক মহল।
পাহাড়ে আগামী দিনে কী হবে? বাংলা থেকে কি পাহাড় আলাদা হবে? গোর্খাল্যান্ড তৈরি হবে? সেই চর্চা শুরু হল। পাহাড়ের সমস্যায় স্থায়ী সমাধানে এবার তিনপক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হল। রাজ্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা, গোর্খা নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিও ছিলেন। বৈঠকেই পাহাড় সমস্যার ‘শাহী নকশা’ তৈরি হল। একটি বৈঠক গঠিত হয়েছে। সেই কমিটির মাথায় থাকছেন বিএসএফের প্রাক্তন ডিজি প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিং। তবে কতজনকে নিয়ে কমিটি গঠিত হল? কারা ওই কমিটিতে আছে? সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
পাহাড়ের উন্নয়নে তৃণমূল আমলে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাকট (জিটিএ) তৈরি হয়েছিল। গত তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএতে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, শিক্ষক দুর্নীতি-সহ পর্যটন ক্ষেত্রেও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারে পাহাড়ে উন্নয়নই একমাত্র লক্ষ্য বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল। এদিনের বৈঠকেও একইভাবে দার্জিলিংয়ের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৈঠকে জানিয়েছেন, সাংবিধানিকভাবেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে। পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক করবেন শাহ। পাহাড়ের উন্নয়ন, সমস্যার সমাধান সাংবিধানিক পথেই হোক। সেই কথাই সম্মতি প্রকাশ করেছেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। জিটিএ উন্নয়নে আরও পদক্ষেপ হবে বলেও বৈঠকে স্থির হয়েছে।

