বকেয়া ডিএ কিভাবে দেওয়া হচ্ছে? দুদিনের মধ্যেই মনিটরিং কমিটিকে সব পক্ষকে জানাতে বলল শীর্ষ আদালত
রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এ বিষয়ে আদালত যে মনিটরিং কমিটি তৈরি করেছিল, আগামী দু’দিনের মধ্যে তাদেরই সব পক্ষকে রিপোর্ট দিতে হবে। ১৮ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সে দিন রাজ্যের অবস্থান এবং ডিএ সমস্যার ভবিষ্যৎ বিবেচনা করবে শীর্ষ আদালত।
পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার মূল রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র পুরোটাই রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ তৎক্ষণাৎ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বাকি ৭৫ শতাংশ ধাপে ধাপে কী ভাবে মেটানো যায়, যাতে সরকারের উপর বাড়তি চাপ না পড়ে, সেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল। তারাই আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছে। কমিটির বৈঠকে কী কী উঠে এল, তা জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতকে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট ওই কমিটিকে নিজেদের বক্তব্য রিপোর্ট আকারে সব পক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিল।
ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়েছে কি না, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার কাজ কত দূর এগিয়েছে, বকেয়া ডিএ-র কতটা মেটানো হয়েছে, আর কতটা বাকি আছে, বাকি অংশ কী ভাবে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের, সব তথ্যই কমিটিকে রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে। মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে দু’দিনের মধ্যে ডিজিটাল আকারে রিপোর্ট দিতে হবে, জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ।
২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা দিতে হবে রাজ্যকে। স্টেটাস রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রথম কিস্তিতেই বকেয়া ডিএ-র ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকাও ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে, তৃতীয় কিস্তি জুলাই মাসে এবং চতুর্থ কিস্তি দেওয়া হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাসে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পান। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কিছু দিন আগের বাজেটে ডিএ-র পূর্বনির্ধারিত হার ২০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অগস্ট মাস থেকে এ রাজ্যের কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে এখনও ঘাটতি রয়েছে ২২ শতাংশ।

