পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের নিট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ধরপাকড়ে উদ্বিগ্ন সিজেপি! কী বললেন সংগঠনের মুখপাত্র?
পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে নিট-আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ধরপাকড়ে উদ্বিগ্ন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকারকে মনে করিয়ে দিয়েছে তারা। সোমবার একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে সিজেপি জানিয়েছে, যে সমস্ত রাজ্যে নিট-বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কারণে পুলিশ ধরপাকড় চালিয়েছে, সেখানে ধৃতদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিয়ে এফআইআর খারিজ করা হোক, চান অভিজিৎ দীপকেরা।
সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সোমবার সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তাতে লেখা হয়েছে, ‘‘বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষত অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারে ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারীদের নিশানা করা হচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। তাঁদের আটক করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও গ্রেফতারও করা হচ্ছে। কোনও বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে এখন অথবা ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না— কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আমরা এই মর্মে আশ্বাস পেয়েছিলাম এবং তার পরেই আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। তাই ধরপাকড়ের খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।’’
ধৃতদের আইনি সহয়তার বিষয়ে সৌরভ লিখেছেন, ‘‘প্রত্যেক আন্দোলনকারীকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই, আমাদের আইনি সহায়ক দল সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যথাসম্ভব আইনি সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা। যাঁদের আটক করা হয়েছে, তাঁদের ছাড়ানোর চেষ্টা করব। প্রথম দিন থেকেই আমরা সেটা করে আসছি।’’ নড্ডাদের উদ্দেশে এর পর সিজেপি-র বার্তা, ‘‘আমরা কেন্দ্রীয় সরকারকে, বিশেষত জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি। অবিলম্বে যাতে বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দেশের কোনও প্রান্তে যাতে কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ না-করা হয়, সেই নির্দেশ দিতে হবে। এফআইআরগুলিও প্রত্যাহার করতে হবে।’’
সিজেপি-র বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘‘সরকার কথা রাখবে ভেবেই আমরা দেশজোড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিলাম। যে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা সিজেপি, সাধারণ মানুষ এবং লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর বিশ্বাসভঙ্গের সমান। তা মেনে নেওয়া যাবে না। আমরা সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করা যায় না। তা পূরণ করতে হয়।’’
আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। ভারত সরকার এবং বিজেপি ও এনডিএ শাসিত সমস্ত রাজ্য সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্বশীল ভাবে পদক্ষেপের আর্জি জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন সৌরভ।
‘ককরোচ’-দের এই আন্দোলনকে প্রথম থেকেই সমর্থন করে আসছেন শিক্ষাবিদ তথা সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং ধর্মেন্দ্রের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন তিনি। অনশনের ২১ দিনের মাথায় যন্তর মন্তর থেকে জোর করে তাঁকে তুলে হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। পরে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে হাসপাতাল বদল করা হয় তাঁর। সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে সোনম আবার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে সওয়াল করেন। এ-ও দাবি করেন, ‘‘যাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।’’ পাশাপাশি তিনি এ-ও মনে করেন, ‘‘কোনও দুষ্কৃতী যদি অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু করে, সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না— এমনটা কখনই নয়।’’ সোনমের সংযোজন, ‘‘আমি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেটার প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। তবে বাকি বিষয়গুলির ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’’
সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

