প্রচ্ছদ 

রাহুল গান্ধী ও ছাত্র যুব সমাজের চাপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান!

শেয়ার করুন

ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন দেশবাসীর চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল কংগ্রেসসহ যুব সমাজের একাংশ। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া কোনও শর্তেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এ বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া চলবে না। দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে।

কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও যুব সমাজের পক্ষ থেকে মোট তিনটি দাবি সরকারের কাছে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে প্রথম দাবিই ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা। এ ছাড়া, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করার নিশ্চয়তা এবং নিটের প্রশ্নফাঁসে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দাবিটি সরকার মেনে নিলেও এক নম্বর দাবি শুক্রবার পর্যন্ত মানা হয়নি। কেন্দ্রের তরফে জেপি নড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছিলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ ফের তাঁরা ‘ককরোচ’দের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তার দেড় ঘণ্টা আগেই সিজেপি-র প্রথম দাবি মান্যতা পেল। উল্লেখ্য, শনিবার সকালেই সিজেপি জানিয়েছিল, যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে রাজি না-থাকেন, তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থ নেই।

ইস্তফার কথা ঘোষণা করে শনিবার দুপুরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন ধর্মেন্দ্র। জানিয়েছেন, গত ১০ দিনের ঘটনায় তিনি দুঃখিত। ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, ‘‘ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষার সংস্কারে গত চার দশক ধরে আমি নিজেকে নিবেদন করে এসেছি। সবসময় বিশ্বাস করেছি, শক্তিশালী, দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি হতে পারে। দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি, ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশাকে আমি গভীর ভাবে শ্রদ্ধা করি। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করা আমাদের সকলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গীকার। দেশের সেবা করার সুযোগ আমি পেয়েছি, তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।’’

ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, গত ৩ মে নিটের পরীক্ষায় যে অনিয়ম ধরা পড়েছিল, প্রথম দিন থেকে তিনি তার দায় নিয়েছিলেন। কখনও দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেননি। তাঁর কথায়, ‘‘কোনও মেধবী ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেব না, কারও সঙ্গে অন্যায় হতে দেব না— এটাই আমার সঙ্কল্প ছিল। গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমি ব্যথিত। যন্তর মন্তর এবং সারা দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলি যাতে তার সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যাতে অটুট থাকে, কোনও পড়ুয়া যাতে আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে পড়ে, আমাদের সন্তানেরা যাতে কেরিয়ারে মনোনিবেশ করতে পারে, সে কথা বিবেচনা করে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’’

ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, নিটের প্রশ্নফাঁসের পর ২০ লক্ষাধিক পড়ুয়ার পরীক্ষা যাতে সুচারু ভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা-ই অগ্রাধিকার ছিল সরকারের। তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং জেলা প্রশাসনের বিশেষ ভূমিকা ছিল। সকলের সহযোগিতায় ২১ জুন পুনরায় নিট আয়োজিত হয়। ১৬ জুলাই নিটের ফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ধর্মেন্দ্র। বলেছেন, ‘‘কিছু মানুষ পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। বাধা সৃষ্টি করেছেন। তাতে আমি ব্যথিত।’’

প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রী পরিষদের সকল সদস্যকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। ইস্তফাপত্রের শেষে তিনি লিখেছেন, ‘‘দেশসেবাই আমার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাতে আমি সবসময় নিবেদিত থাকব। ভবিষ্যতেও ভারতমাতা, ওড়িশার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করব।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ