“আপনি কী করেছেন, সবটাই আমি জানি’ নাম না শুভেন্দুকে আক্রমণ মমতার
বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর দল ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে একের পর এক সাংসদ বিধায়ক বেরিয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আজ একুশে জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অগ্নিপরীক্ষা ছিল। রাজনৈতিকভাবে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কিনা সেটা ছিল কোটি টাকার প্রশ্ন। তবে আজ বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে অনুষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসের মঞ্চে যে জনসমাগম হয়েছে তাতে মমতা খুশি হতেই পারেন।
জলের বিপর্যয়ের পর কর্মীদের এই উচ্ছ্বাস দেখে তিনি অনেকটাই খুশি হয়েছেন আর এই উচ্ছ্বসিত জনতাকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নেশা না করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। নাম না করি মুখ্যমন্ত্রী কে আপন করে তিনি যা বললেন তা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
নাম না করেই তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বদলে শুধুমাত্র তৃণমূলকে দুর্বল করার রাজনীতি করছে। বিরোধীদের দমনের চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘মুখ খুললে আপনি তৃণমূলে ১০ বছর কী করেছেন, সব মুখোশ খুলে দেব।’’
মমতার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার প্রায় দু’মাস পরে শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও একই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সে সময়ও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, শুভেন্দু দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তখন মমতা বলেছিলেন, ‘‘আপনিও প্রায় ১০-১১ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক এবং মন্ত্রী ছিলেন। কখনও পরিবহণ দফতর, কখনও সেচ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। একাধিক জেলার দায়িত্বও আপনার হাতে ছিল। জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত ও গ্রামসভা গঠনের কাজেও ভূমিকা নিয়েছেন। আপনি কী করেছেন, সবটাই আমি জানি।’’ একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চে সেই পুরনো বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি।
এদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে সাময়িকভাবে চুপ করানো যেতে পারে, কিন্তু তাতে দলের আসল শক্তি বদলে যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘আসল তৃণমূল আমরা। শুধু সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিলেই দল হয়ে যায় না। ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড। কয়েকজন নেতা চলে গিয়েছেন, কিন্তু কর্মীরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’’ দলত্যাগীদের উদ্দেশে শেষবারের মতো কটাক্ষ ছুড়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে, মানে, প্রাণে ভালো থাকুন। নতুন প্রজন্মকে নিয়েই নতুন করে লড়াই হবে।’’
দল ভাঙার পর প্রথম একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতার এই ধারাবাহিক আক্রমণ যে আগামী দিনের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলল, তা বলাই যায়।

