কলকাতা 

অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় নারাজ অধ্যক্ষ, প্রতিবাদে বিধানসভা অধিবেশন বয়কট বাম-কংগ্রেসের , অধ্যক্ষের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন মান্নান-সুজনের

শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্য বিধানসভায় বাম-কংগ্রেস মিলিতভাবে যে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে তা আলোচনার দাবিতে বুধবারও বিধানসভার অধিবেশন বয়কট করেন বাম-কংগ্রেস । উল্লেখ্য গতকালই অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার দাবি জানিয়ে ছিল বিরোধী । কিন্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আছে তা পাশ করাতে হবে এই কারণ দেখিয়ে অধ্যক্ষ অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে চাননি । ফলে বাম-কংগ্রেস দুজনই অধিবেশন বয়কট করেন ।

আজকে অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনার দাবি করেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। কিন্ত অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের এই দাবি খারিজ করে দেন । এরপরই বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান  বলেন, “অস্বাভাবিক পরিস্থিতি চলছে অধিবেশন কক্ষে।”

বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমরা বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন রকমের প্রস্তাব অধ্যক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। সেগুলি নিয়ে বিধানসভার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তও হয়েছে। কিন্তু, অধ্যক্ষ কোনও কথায় কর্ণপাত করেন না।”

কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক মনোজ চক্রবর্তী বিধানসভার ভিতরেই কড়া ভাষায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সংসদীয় রীতিনীতি না মেনে অধ্যক্ষ নিজেই নিজের সম্মান নষ্ট করলেন। উনি মেরুদণ্ডহীন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে বিধানসভা চালান। মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে ভীত হয়ে তিনি আজ অনাস্থা প্রস্তাব আলোচনা করতে দিলেন না।”

বিধানসভার বাইরে এসে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “সরকার ভয় পেয়েছে। তাদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরা হবে। পালিয়ে গেছে সরকার পক্ষ। শবরদের মৃত্যু নিয়ে বলতে গেলাম, বলতে দেওয়া হল না। আমাদের মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হলে সরকার পড়ে যেত এমনটা নয়। আসলে আমরা বার্তা দিতে চেয়েছিলাম সরকারকে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে আজ আলোচনা করতাম। কিন্তু, অধ্যক্ষের সৎসাহস নেই। তিনি কোনও রকম ভাবেই সংসদীয় রীতি মেনে চলেন না। বিরোধীদের কথা বলতে দেন না। মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেছেন তারপরই অধ্যক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে দেবেন না। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক।”

সুজন চক্রবর্তী বলেন, “নির্লজ্জ, অমেরুদণ্ডী, কেঁচোর মতন আচরণ করছেন অধ্যক্ষ। বিধানসভার অধিবেশন কক্ষকে তিনি বেআইনি কাজে পরিণত করছেন। ৩৭ জন বিধায়ককে দাঁড় করিয়ে যে সিদ্ধান্ত হল, সেই সিদ্ধান্তকে তিনি বাতিল করলেন। অধ্যক্ষ ঘোরতর ও চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন আজ। অধ্যক্ষের কথায় হাউজ় পরিচালিত হয় না। হাউজ় পরিচালিত হয় বাইরের নির্দেশে। আজ সেটাই স্পষ্ট করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পদলেহন করে চলছেন বিধানসভার অধ্যক্ষ। যতক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী অধিবেশন কক্ষে থাকেন, অধ্যক্ষ তাঁর ডান দিকে তাকিয়ে থাকেন। এখানে বিরোধীদের কিছু বলতে দেওয়া হয় না। আমরা যে অনাস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চাইছিলাম সেখানে রাজ্যের মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা হত। এই সরকারের সংখ্যা আছে, কিন্তু যোগ্যতা নেই। তাই আজ স্পষ্ট হল। সাংবিধানিক অধিকার থেকে বিধানসভাকে বঞ্চিত করা হল।”

 

 


শেয়ার করুন
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment