কলকাতা 

Mamata Banerjee : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো কর্মীদের আক্রমণ করার কোন অধিকার নেই, দলনেত্রীকে যারা ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেছেন সেই সব নেতাদের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরী : দলের পুরোনো কর্মীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে বলেছিলেন স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এ কথা তো ঠিক রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভের পেছনে কোন প্রশান্ত কিশোরের অবদান নেই একা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে এই রাজ্যের মানুষ তাকে দুহাত ভরে ভোট দিয়েছেন এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এ বাংলার মানুষের আলাদা একটা ভালোবাসা রয়েছে আর একটা সম্মানবোধ রয়েছে এটা মানতেই হবে।

একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যারা রাজনীতি করেছেন তাদের সম্মান আলাদা রয়েছে। সময় এবং সুযোগ মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্রয় পেয়ে যারা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর আবার বিপদের দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি দিয়েছেন তারা যখন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হয়ে বসেন তখন অবশ্যই প্রশ্ন উঠতে থাকে। সম্প্রতি একটি সামান্য ঘটনা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ লড়াই যেভাবে সামনে এসেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ নেতাদের মনে রাখতে হব তৃণমূল কংগ্রেস কোন দল নয় এটা বাংলার মানুষের আবেগ। আবেগকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যায় না।

সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য করেছেন আগামী দুই মাস রাজনৈতিক, সামাজিক ধর্মীয় কর্মসূচি বন্ধ রাখা উচিত বলে। তিনি এও বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। আর এই নিয়ে পাল্টা মতামত ব্যক্ত করেছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এটাকে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধীতা বলে মনে করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন,‘‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে থেকে কারও ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে না। অনেক বিষয়েই আমারও ব্যক্তিগত মত আছে। দলীয় শৃঙ্খলার কারণেই তা প্রকাশ্যে বলি না। এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারেরই বিরোধিতা করার শামিল। এ ভাবে আসলে রাজ্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’’

তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বক্তব্যকে সমর্থন যোগ্য কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু এটাতো বলতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর মেলা এবং চার পুর নিগমের ভোট ঘোষণা করার পেছনে রাজ্য সরকারের অবদান রয়েছে। দলের সাধারণ সম্পাদক যখন কর্মসূচি বন্ধ রাখার কথা বলেন তখন ঘুরিয়ে হলেও রাজ্য সরকারের এসব কর্মসূচির প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করা হয় বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করেন। তাই দেখা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের মন্তব্যের পরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়ে গেল। তাহলে কি মমতার সিদ্ধান্তের সঙ্গে অভিষেকের সিদ্ধান্তের কোথাও তফাৎ হচ্ছে কোথাও দূরত্ব বাড়ছে?

আর এ নিয়ে শুরু হয়ে যায় দলের অভ্যন্তরীণ লড়াই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্তরে কুৎসা করা এক নেতা প্রকাশ্যে কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একজন সাংসদকে আক্রমন করে বসেন। এই নেতা গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় গোপনে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আজ যদি বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসত তাহলে তিনি সবার আগে বিজেপিতে যোগ দিতেন বলে সূত্রের খবর। এহেন একজন নেতা যিনি কয়েক বছর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেছেন। বাংলার মানুষ তাকে এখনো বিশ্বাস করে না। কিন্তু বাংলার মানুষ যখন দেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে নেতা তিনি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে আছেন।তার কথা এই বাংলার সাধারন তৃণমূল কর্মীদের মনে আঘাত লাগে । সেই নেতা যখন  সরাসরি কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একজন সাংসদ যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্দিন থেকে সঙ্গী রয়েছেন তাকে ব্যক্তিগত স্তরে আক্রমণ করেন তখন প্রশ্ন উঠে দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আক্রমণ করা ব্যক্তি যদি দলের পুরোনো কর্মী দের আক্রমণ করতে থাকেন তালে তালে শৃঙ্খলা কি বজায় আছে এ প্রশ্নটা সামনে আসতে থাকে?

ইট মারলে যেমন পাটকেল খেতে হয় তেমনি পাল্টা মার দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বললেন,‘‘জেল থেকে মমতাকে আক্রমণ করিনি। প্রিজন ভ্যান থেকেও কিছু করিনি। কবে দলে আছেন, কবে নেই, জানি না। আমার ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করলে, আমাকেও দেখতে হবে নিয়ম ভাঙা হচ্ছে কি না।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন,‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া কাউকে নেতা বলে মানি না। যে যার পদে আছে, সেই পদকে সম্মান করি। কিন্তু নেতা বলে মানি না।’’ পাশাপাশি নাম করে দলের সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কল্যাণের খোঁচা, ‘‘অভিষেক ব্যানার্জি যদি ত্রিপুরা আর গোয়া জিতিয়ে দেখাতে পারেন, তাহলে ওঁকে নেতা বলে মেনে নেব!’’

গতকাল বৃহস্পতিবার তৃণমূল দলের এক মুখপাত্র কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘‘দলের সর্বাধিনায়িকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরই রয়েছেন অভিষেক। অভিষেকের মতো নেতা কিছু বললে দলের সৈনিক হিসেবে আমাদের তা চুপ করে শোনা উচিত। কোনও মন্তব্যের আগে সব দিক ভেবে দেখা উচিত।’’ এ কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সপাট জবাব এল শ্রীরামপুরের সাংসদের তরফ থেকে।

দলের অভ্যন্তরীণ লড়াইটা এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে খারাপ সংকেত যাচ্ছে। আর এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তারাই দায়ী যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। মনে রাখতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি যাদের আস্থা সবচেয়ে বেশি সেই সকল ব্যক্তিরা এখন অনেকটাই কোণঠাসা। কেন কোণঠাসা তা জানা যাচ্ছে না?

একথা অস্বীকার করা যাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যারা সম্মান দেখিয়েছেন এখনো সম্মান যারা দেখান তারা এই শাসক দলের কাছে সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়েছে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ