দেশ 

ধর্ষণ মামলায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রূত করা থেকে শুরু করে, অপরাধীদের শাস্তি আরও কঠোর হচ্ছে, সংসদে সংশোধনী পাশ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নিজস্ব প্রতিনিধি : ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত হলে সবোর্চ্চ শাস্তি এবার মৃত্যুদন্ডের নিদান করার জন্য  ২০১৮-র ফৌজদারী আইন সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পাশ হয়েছে। এটি গত ২১ শে এপ্রিল জারি হওয়া ফৌজদারী আইন সংশোধনী অধ্যাদেশেই  আইনি রুপ। এই বিলে ধর্ষণ, বিশেষ করে ১২ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি এমনকি মৃত্যুদন্ডেরও সংস্থান রয়েছে।

১২ বছরের কম বয়সীদের ধর্ষণের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে ন্যূনতম ২০ বছরের কারাদন্ডের সংস্থান রাখা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে তা যাবজ্জীবন কারাবাস, এমনকি মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত করা হতে পারে। অন্যদিকে, এই বিলে ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণের ক্ষেত্রে শাস্তির মেয়াদ ১০ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ করা হয়েছে। এই শাস্তির মেয়াদও আরো বাড়িয়ে যাবজ্জীবন কারাদন্ড পর্যন্ত করা হতে পারে। ১৬ বছরের কম বয়সীদের গণধর্ষণের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদন্ডই অবশ্যম্ভাবী বলেও জানানো হয়েছে । নতুন বিলে ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত তদন্ত এবং বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের সব মামলারই তদন্তের কাজ দু-মাসের মধ্যে শেষ করা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া, বিচার প্রক্রিয়াও দু-মাসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। বিল নিয়ে আলোচনার জবাবী ভাষণে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে এই বিলের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। শুধুমাত্র ধর্ষণের মামলার বিচারের জন্য কয়েকটি বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গড়ে তোলা হবে। এছাড়া যে আদালতে ধর্ষণের মামলার শুনানি হবে, সেখানে মহিলা বিচারপতি এবং বয়ান নথিভূক্তির জন্য মহিলা পুলিশ আধিকারিক নিয়োগের সংস্থানও বিলে রাখা হচ্ছে বলে শ্রী রিজিজু উল্লেখ করেন।

এদিকে, গণপ্রহারে হত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদন্ডের সুপারিশ করে কেন্দ্রীয় সরকার খুব শীঘ্রই একটি বিল আনবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ আহির জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বিল, ১২ বছরের নীচের বালিকাদের ধর্ষণে অভিযুক্তদের মৃত্যুদন্ডের বিলের মতো হবে। তিনি বলেন, গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যা একটি বর্বরোচিত অপরাধ এবং কোনো সভ্য সমাজ তা মেনে নিতে পারে না।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন অংশে সম্প্রতি গরু পাচার, এবং শিশু অপহরণের মতো অভিযোগকে কেন্দ্র করে গণপ্রহারের বেশ কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment