অন্যান্য 

করোনা : সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসাবে শাহিনবাগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে ‘আন্দোলনের সাফল্য’ আসবেই

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : সমগ্র বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের থাবা গ্রাস করেছে । তা থেকে ভারতও রেহাই পেল না । চিন থেকে যে ভাইরাস ছড়িয়েছে তা আজ বিশ্বের ১৮৯টি দেশকে আতংকগ্রস্থ করেছে । চিন , ইতালি , আমেরিকা, ফ্রান্স ও স্পেনে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত । এবার এই ভাইরাস আক্রমণ শুরু করেছে ভারতীয় উপমহাদেশে । ভারত সরকার  এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষনা করে দিয়েছে । দেশের ৯১টি জেলা লক-ডাউনের মধ্যে পড়েছে ।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লির শাহিনবাগ আন্দোলনের গুরুত্ব কমতে শুরু করেছে । কারণ দেশ এখন সংকটে , দেশের সামনে মানুষের প্রাণ রক্ষা করা প্রাথমিক দায়িত্ব হয়ে পড়েছে । আর শাহিনবাগ আন্দোলন ইতিমধ্যে সমগ্র বিশ্বের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে , বিশ্বের প্রথম সারির উন্নত মানের দেশগুলির সংসদে শাহিনবাগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে । শাহিনবাগ আন্দোলনের প্রতি বিশ্বের সাধারন মানুষের সহানুভূতি প্রকাশ পেয়েছে । শাহিনবাগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হল সিএএ প্রত্যাহার ও এনআরসি করা যাবে না । যদিও কেন্দ্র সরকার সিএএ প্রত্যাহার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি । অদূর ভবিষ্যতে নেবে এটাও জোর দিয়ে বলা যায় না । আসলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সিএএ নিয়ে নিজেদের অবস্থান বদল করতে চাচ্ছে না । ফলে আন্দোলনকারীরাও অনড় অবস্থানে আছেন । তাদের দাবি অবিলম্বে সিএএ প্রত্যাহার করতে হবে ।

তবে এখানে আমার আবেদন এই যে , একজন ভারতবাসী হিসাবে । এখন দেশবাসী এক চরম সংকটের সামনের দাঁড়িয়ে এই অবস্থায় সাময়িকভাবে হলেও শাহিনবাগ আন্দোলন প্রত্যাহার করা উচিত । করোনাভাইরাসের জুজু দেখিয়ে হয়তো আজ বা কাল জোর করেই শাহিনবাগকে তুলে দেওয়া হতে পারে কিংবা সরকার জরুরি পদক্ষেপ হিসাবে এটা করতে পারে । তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্দোলন তুলে দেওয়ার জন্য সরকার এরকম পদক্ষেপ করতেই থাকবে । কারণ আজ দেশে মহামারি আইন বলবৎ রয়েছে । এই আইন মোতাবেক মহামারি রোখার জন্য যেকোনো পদক্ষেপ সরকার করলে তা আদালত সমর্থন করবে । আর এই মহামারি আইন মোতাবেক এক সঙ্গে বেশ কয়েকজন থাকাটা অপরাধ । এই আইনকে কাজে লাগিয়ে যেকোনো দিন দিল্লি কিংবা পার্কসার্কাস শাহিনবাগ তুলে দিতে পারে সরকার ।

তাই আন্দোলনের কৌশল হিসাবে মাঝে মাঝে পিছু হঠতে হয় । সুতরাং শাহিনবাগ দিল্লি কিংবা পার্ক সার্কাস অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত । এটা আন্দোলনের পরাজয় হবে না , এটা দেশের সচেতন নাগরিক হিসাবে কর্তব্য পালন করা হবে । আন্দোলন প্রত্যাহারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে আগামী আন্দোলনের বড় সাফল্য । আর শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা যদি নিজে  থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার না করে তাহলে আগামী দিনে বল প্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের সরানো হলে সেক্ষেত্রে দেশবাসীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কাছ থেকে সহানুভূতি পাওয়া যাবে না । সুতরাং শাহিনবাগের আন্দোলনকারীরা নিজে থেকে অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নিলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিপুল অংশের সমর্থন , সহানুভূতি ও ভালবাসা যে পাবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment