কলকাতা 

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের এনপিআর নীতি নিয়েও চলছে তুঘলকি কান্ড , এনপিআর আসলে কি, কেন এত গোপনীয়তা ? জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বিজেপি সরকারের কোনো নীতি নেই । সকালে এক কথা বলছে ,বিকেলে অন্য কথা । মোদী এক কথা বলছেন , অমিত শাহ উল্টো বলছেন । অমিত শাহ বলেছিলেন এনপিআরের পর হবে এনআরসি , মোদী বলছেন এনআরসি নিয়ে কোনো কথা আলোচনা হয়নি । এদিকে , তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী বলছেন এনপিআর করার সময় কোনো তথ্য লাগবে না । মুখে যা বলবে সেটাই লিখবে কর্মীরা । বাড়ি বাড়ি যাবে কর্মীরা । কোনো বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে না । আসলে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইছেন কেন্দ্রের মন্ত্রীরা । নোটবন্দীর পর যেভাবে একের পর এক সাকুর্লারে সাধারন মানুষের অবস্থা খারাপ হয়েছিল । ঠিক সেই সময় সরকারের কাছে কোনো বিশেষ নীতি ছিল না । দিশেহারা হয়ে পড়েছিল । একই অবস্থা হয়েছে সিএএ , এনপিআর ও এনআরসি-র ক্ষেত্রে ।

তিনটি বিষয় আলাদা নাকি একের সঙ্গে অপরের যোগ রয়েছে ! তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে মন্ত্রীরা । এত গোপনীয়তা কিসের জন্য ? কেন গোপনীয়তার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে ? কোথায় সমস্যা ? তা নিয়ে নিরব কেন সরকার । সরকারের এই নিরবতা , নীতিহীনতা , সর্বোপরি বিধিবদ্ধ বিধান না থাকার ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্ত বাড়ছে । আর এই বিভ্রান্তিতে পড়ে আতংকের শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ ।

ধরুন সিএএ আইনে বলা হয়েছে বাংলাদেশ , পাকিস্থান ও আফগানিস্থান থেকে আসা সমস্ত অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে । তাহলে তো সবাই চলে আসবে , কোনো রক্ষাকবচ কী নেই ? আছে , সেটা গোপনে । সমস্যা যে উদ্বাস্ত বাঙালিদের হবে , গরীব –নিম্নবিত্ত পরিবারের হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । তবে আর্থিক দিক থেকে অবস্থাপন্ন মানুষের অবস্থা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল । সেদিকে কারও নজর নেই । যারা ২০/২৫ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছে , বাস করছে , বাড়ি করেছে , চাকরি করছে । তারা তো ভারতের নাগরিক হিসাবে আবেদন করবে । কিন্ত যদি কোনো কারণে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারে তাহলে দেখা যাবে তারা শরণার্থী হয়ে গেল । কিন্ত শরণার্থী হওয়ার পর আবার নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে । তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন উঠবে মিথ্যা হলফনামা কেন দেওয়া হয়েছিল । আর এটাকে কেন্দ্র করে চাকরি , জমি-বাড়ি সবই বাজেয়াপ্ত করে নেবে সরকার । তারপর বেশ কয়েক বছর অপেক্ষা করার পর আবার নাগরিকত্ব ফিরে পাবে । তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নয়া ভারত । অথচ সরকারের দায়িত্ব ছিল বিষয়গুলিকে আমজনতার কাছে ভালভাবে তুলে ধরা । তা না করে সরকারের গোপনীয়তার ভেতরে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক তৈরি হচ্ছে ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment