চোরবাগান সংলগ্ন এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ করল কলকাতা পুলিশ জারি ১৬৩ ধারা!
চোরবাগানের বিপর্যয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পরে অবশেষে পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। চোরবাগান সংলগ্ন নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নবমী পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল বেআইনি জমায়েত। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চোরবাগান সংলগ্ন বউবাজার থানা এলাকার কিছু অংশে জারি করা হয়েছে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা। নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রবিবার সকালেই এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অংশে এই কড়াকড়ি জারি থাকবে। বস্তুত, এই এলাকাটি চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপের থেকে খুব বেশি দূরে নয়। যদিও পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে চোরবাগান সংক্রান্ত কোনও বিষয়ের উল্লেখ নেই।
রবিবার সকালে পুলিশ কমিশনার নন্দ এবং রাজ্যপাল আরএন রবি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে যান। সেখানে ভর্তি থাকা আহতদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চোরবাগানের বিপর্যয়ে ইতিমধ্যে উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর রুজু করেছে পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন, ১১০ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টা এবং ৩(৫) ধারায় একই অভিপ্রায়ে দলবদ্ধ ভাবে অপরাধের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, পুলিশ কমিশনার জমায়েতে নিষেধাজ্ঞার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, তাতে বলা হয়েছে— শান্তিভঙ্গ হওয়া সম্ভবনা ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ১৬৩ ধারা জারি হওয়া নির্দিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি লোকের বেআইনি জমায়েত, লাঠি বা কোনও অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গোটা বউবাজার থানা এলাকার ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞপ্তি প্রযোজ্য নয়।

