অনলাইন ‘স্ব-শুমারি’ র মাধ্যমে রাজ্যের জনগণনার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শনিবার ‘স্ব-শুমারি’ (সেলফ এনুমারেশন) করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর এ ভাবেই রাজ্যে সূচনা করলেন জনগণনার। তাঁর আশ্বাস, জনগণনার জন্য রাজ্যবাসী যে তথ্য দাখিল করবেন, তা গোপন এবং সুরক্ষিত থাকবে। দেশের ষোলোতম জনগণনার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— ‘স্ব-শুমারি’ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য দাখিলের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রাজ্যে শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে গেল জনগণনার কাজ। দেশ জুড়ে চলছে এই কাজ। অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বসে ‘স্ব-শুমারি’ করে বলেন, ‘‘এ বারের জনগণনায় দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১০০ শতাংশ ডিজিটাল জনগণনা হচ্ছে। সেলফ এনুমারেশন অর্থাৎ স্ব-শুমারি হচ্ছে প্রথম বার।’’ তিনি এই কাজে জনগণনাকর্মীদের সহযোগিতা করারও আবেদন জানিয়েছেন। রাজ্যবাসীকে ‘স্ব-শুমারি’র সুবিধা গ্রহণ করতে বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১ থেকে ১৫ অগস্ট পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনলাইনে দাখিল করা যাবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘রাজ্যবাসীর দেওয়া তথ্য গোপন এবং আইনগত ভাবে সুরক্ষিত থাকবে। একমাত্র পরিসংখ্যান, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নের জন্য তা ব্যবহার করা হবে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ বা অপব্যবহারের সুযোগ নেই।’’ এ বারের জনগণনার ট্যাগলাইন ‘জনগণের জনকল্যাণ’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘‘বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে জনগণনা সফল হোক।’’
১৫ অগস্ট ‘স্ব-শুমারি’ পর্ব শেষ হওয়ার পরে ১৬ অগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করবেন জনগণনার কাজে নিযুক্ত কর্মীরা। নাগরিকদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশোধনের সুযোগও থাকবে। এ বারের জনগণনায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। গণনাকারীদের জন্য বিশেষ মোবাইল অ্যাপের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে আপলোড করা হবে। এর ফলে তথ্য সংগ্রহের কাজ আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছ হবে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কারণে কাগজের ব্যবহারও অনেকটাই কমে যাবে।
অনলাইনে মোট ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ব্যক্তিগত পরিচয়, পরিবারে সদস্যের সংখ্যা, শিক্ষা, পেশা, বাসস্থানের বিবরণ-সহ একাধিক তথ্য দিতে হবে। এ বারই প্রথম জনগণনায় জাতিভিত্তিক তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘এর ফলে সাধারণ মানুষ জাতিগত সুবিধা পাবেন। আলাদা করে তাঁদের লাইনে দাঁড়াতে হবে না। জাতিগত তথ্যে স্থায়ী পরিসংখ্যান থাকবে।’’ তিনি এই প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের দিকেও আঙুল তুলেছেন। বলেন, ‘‘বিগত সরকার সময়মতো কাজ শুরু করেনি। আমরা কাজটাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’’
প্রশ্ন উঠেছে, যাঁদের নাম এসআইআর তালিকায় বিবেচনাধীন, তাঁরা কি ‘স্ব-শুমারি’ করতে পারবেন? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই নিয়ে নির্দেশিকা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষের নাম বিবেচনাধীন ছিল। কিছু নাম উঠেছে। ট্রাইবুনাল হয়েছে। সাত লক্ষ মানুষ ট্রাইবুনালে আপিল করেছেন। ২০ লক্ষের তরফে কোনও রেসপন্ড করা হয়নি।’’ এই প্রসঙ্গে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের অবস্থান আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, দু’ধরনের লোক পার্শ্ববর্তী দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসেছেন— অনুপ্রবেশকারী এবং শরণার্থী। যাঁরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাঁরা এ রাজ্যে থাকবেন না। সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে। আগের সরকারের সময় বীরভূমে যে ত্রুটি ঘটেছিল, তা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘অন্যেরা হলেন শরণার্থী। সিএএর আওতায় হিন্দু, শিখ, জৈন পারসিরা কিন্তু শরণার্থীর পর্যায়ে পড়েন। ২০১৯ সালের আইন, ২০২৪ সালের রুলে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, তাঁরা শরণার্থী। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাণ, ধর্ম বাঁচানোর জন্য বাংলাদেশ থেকে যাঁরা এ রাজ্যে এসেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা হবে না। পুলিশ হয়রানি করতে পারবে না।’’

