আধা সামরিক বাহিনী নামিয়েও সামলানো যাচ্ছে না, ঢাকা এখন শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে উত্তাল!
বাংলার জনরব ডেস্ক : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা উত্তপ্ত হল শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে। আন্দোলনের সপ্তম দিনে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের মাঝেই পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে শ্রমিকরা। আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তির মৃত্যুও হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এমনকী, আধাসেনাও নামাতে হয়েছে। কিন্তু শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভই রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, শুরুর দিকে আন্দোলনে তেমন ঝাঁজ ছিল না। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে ততই পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় ৬৭০টি বস্ত্র কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে চাপ ক্রমশই বাড়ছে। কেন এই আন্দোলন? শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যুনতম রোজগার মাসে ৩০ হাজার টাকা হতে হবে। যা বর্তমান ন্যুনতম আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। আর এই দাবিকে ঘিরে ক্রমশ চড়ছে পারদ। আন্দোলনের মধ্যে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তৌফিক শেখ নামের এক ব্যক্তি। সোমবার আন্দোলন চলাকালীন হামলার দৃশ্য মোবাইলে তুলে রাখছিলেন তিনি। তখনই আন্দোলনকারীদের মারধরের শিকার হন তিনি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মঙ্গলবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়াও আন্দোলনের সময় পুলিশ, শ্রমিক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন জখম হয়েছেন।
বুধবার পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই হেমায়েতপুর ও পদ্মার মোড় এলাকার ১১টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ চালকরা। হেমায়েতপুরের স্ট্যান্ডার গ্রুপের সামনে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কয়েকজন পুলিশকর্মী আহতও হন। পরে পুলিশকে সহায়তা করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন।

