অসমের গুয়াহাটিতে পুলিশি ‘এনকাউন্টার’! হোটেলে ঢুকে ৫ জনকে গুলি করে খুনে অভিযুক্ত
গুয়াহাটির এক হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল এক দুষ্কৃতী। পাঁচ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় অভিযুক্তের মৃত্যু হল পুলিশি ‘এনকাউন্টারে’! পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার রাত ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ। ঘনকান্ত গগৈ নামে ওই অভিযুক্তকে পাকড়াও করে অন্য একটি মামলার তদন্তের সূত্রে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই সময়ই ঘটনাটি ঘটে। শিবসাগরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক পাপোরি চেটিয়া বলেন, ‘‘পুলিশের দল ঘনকান্তকে নিয়ে শিবসাগরে আসছিল। গৌরীসাগরের কাছে অভিযুক্ত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার অনুমতি চায়। তখন পুলিশ তাঁকে গাড়ি থেকে নামায়। গাড়ি থেকে নামার পরই এক পুলিশকর্মীর থেকে সার্ভিস রিভলবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ঘনকান্ত। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। সেই সময় ঊর্ধ্বতন কর্তাকে বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী গুলি চালান। আর তাতেই জখম হন অভিযুক্ত।’’ ওই আধিকারিকের দাবি, সংঘর্ষে এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
গত সপ্তাহে গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার বিলাস ইন হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিলেন ঘনকান্ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হোটেলের মালিক এবং লিজ় নিয়ে হোটেলটি চালানো ব্যক্তির মধ্যে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থেকেই এই হামলা। ওই হোটেলের লিজ় ছিল ঘনকান্তের নামে। অভিযোগ, গুলি চালিয়ে তিনি হোটেলের মালিক হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালিকে খুন করেন। আহত হন পরিবারের আর এক আত্মীয় সত্যেন্দ্র পাঠক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি.৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় ঘনকান্তকে। মঙ্গলবার অন্য একটি মামলায় তাঁকে শিবসাগর নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একই দিনে জোড়া ‘এনকাউন্টারের’ ঘটনা ঘটেছিল। ভোরে এবং ভরদুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এবং মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে দুই পুলিশি এনকাউন্টারের নিহত হন দুই অভিযুক্ত।

