কলকাতা 

SIR প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করছে বিরোধীরা, রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এই অরাজকতার রাজনীতি : স্মৃতি ইরানি

শেয়ার করুন

স্মৃতি সামন্ত, কলকাতা : কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রীমতী স্মৃতি ইরানি SIR প্রক্রিয়া, বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করার বিরোধীদের প্রবণতা নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, দিল্লিতে বিরোধীদের সমাবেশে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য থেকেই তাঁদের প্রকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বাংলা লুট করার পর এবার দিল্লিকেও লুট করতে চায় তৃণমূল। দেশের মানুষ সেই বক্তব্য শুনেছেন এবং দেখেছেন।

SIR প্রসঙ্গে শ্রীমতী ইরানি বলেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন একটি নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। দেশের প্রতিটি বুথে বুথ লেভেল অফিসাররা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভোটারের বাড়িতে একাধিকবার গিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলিরও প্রায় ২০ লক্ষ বুথ লেভেল এজেন্ট যুক্ত ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তাই বিরোধীরা যদি এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তাঁদের নিজেদের বুথ লেভেল এজেন্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে।

তিনি জানান, খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ পড়া প্রায় ১৩ কোটি নামের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি মৃত ভোটারের নাম, ১ কোটি ডুপ্লিকেট নাম, প্রায় ৩ কোটি এমন ভোটারের নাম রয়েছে যাঁদের নির্ধারিত ঠিকানায় একাধিকবার গিয়েও পাওয়া যায়নি এবং প্রায় ৬ কোটি ভোটার তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। প্রায় ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৯০ শতাংশের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, মৃত ও ডুপ্লিকেট ভোটারদের নাম ভোটার তালিকায় রেখে দেওয়ার জন্য কংগ্রেস ও তৃণমূল এত মরিয়া কেন? যাঁদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁদের প্রকৃত অবস্থান অনুসন্ধানের পরিবর্তে বিরোধীরা কেন এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে?

বিদেশি মদতের অভিযোগ প্রসঙ্গে শ্রীমতী ইরানি কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ারের পাকিস্তান সফর এবং রাহুল গান্ধীর লন্ডনে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন করেন, একজন বিরোধী দলনেতা কীভাবে অন্য দেশে গিয়ে সেখানকার সংগঠন, NGO এবং রাজনৈতিক মহলের কাছে দেশের নির্বাচিত সরকারকে সরানোর জন্য সমর্থন চাইতে পারেন? এই ধরনের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং বিদেশি সংগঠনগুলির সঙ্গে বিরোধীদের যোগাযোগ নিয়ে কংগ্রেসের কাছে জবাব চাওয়া উচিত।

বিরোধীদের রাজনৈতিক দ্বিচারিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস ও বামপন্থীরা এক মঞ্চে উপস্থিত হলেও পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের মধ্যে সেই ঐক্য দেখা যায় না। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস কর্মীদের উপর তৃণমূলের অত্যাচারের অভিযোগ থাকলেও দিল্লিতে তাঁরা একই মঞ্চে আন্দোলন করছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং মহম্মদ সেলিম কেন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে একসঙ্গে পদযাত্রা করছেন না? যারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে হাজার হাজার মানুষ নিয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে এবং পুলিশের উপর আক্রমণ করে, তারাই আবার গণতন্ত্র রক্ষার কথা বলছে।

বিজেপির সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের প্রসঙ্গে শ্রীমতী ইরানি বলেন, বিজেপির মূল আদর্শ, সংস্কার ও সংকল্প হল ‘Nation First’। দেশের সর্বভারতীয় সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন গর্বের সঙ্গে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, তা প্রত্যেক বিজেপি কর্মীর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

সম্মেলনের শেষে শ্রীমতী ইরানি বলেন, দেশের ৯০ কোটি ভোটারই ভারতীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত প্রহরী। বিরোধীরা EVM, নির্বাচন কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট এবং সংসদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলিকে যতই আক্রমণ করুক না কেন, দেশের জাগ্রত জনতা কখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ