আন্তর্জাতিক 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেল ট্রাম্পের দল! এবার কী ইমপিচমেন্ট? সংকটের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

শেয়ার করুন

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় পরাজয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির। প্রাথমিক গণনায় স্পষ্ট যে, লাল (রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী রং) দুর্গেও হানা দিয়েছে নীল ডেমোক্র্যাটরা। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে ট্রাম্পের দল। এর ফলে আগামী দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যে কঠিন সংকটের মধ্যে পড়তে হতে পারে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এমনও হতে পারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে পারে বিরোধীরা। এখনো পর্যন্ত প্রাথমিক কেন্দ্রে জানা যাচ্ছে উচ্চকক্ষ সেনেটে ডেমোক্রেটরা ৫৪ টা আসন পেতে চলেছে অন্যদিকে রিপাবলিকান দল পেতে চলেছে ৪৬ টা আসন ফলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে রিপাবলিকান দল। অন্যদিকে হাউস অফ কমনসে ২২৮ টা আসন পেতে চলেছে ডেমোক্রেটরা মাত্র ১৩৭ আসন পেতে পারে রিপাবলিককানরা। দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে চলেছে ট্রাম্পের দল।

ভোটে ধাক্কা খেয়েও অবশ্য মচকাতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তা হলে বিপুল ভোটে জিততাম।”

বুধবার অবশ্য পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। পরাজয়ের জন্য কারচুপি বা অন্য কোনও কারণকে দায়ীও করেননি। এমনকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওদের (ডেমোক্র্যাট) সঙ্গে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।” ট্রাম্প এ-ও জানিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ‘পুরোপুরি’ মেনে নিতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। অবশ্য ভোটের প্রাথমিক ফল থেকে এটা স্পষ্ট যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের বাকি দুই বছর চাপের মধ্যে সরকার চালাতে হবে ট্রাম্পকে। কারণ যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিল ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভস আর সেনেটে পাশ করিয়ে আনতে হবে তাঁকে।

নির্বাচনী পরাজয়ের মধ্যে ট্রাম্প অবশ্য প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মার্কিন সংবিধান আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের একটি বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে। এই ক্ষমতাবলে মার্কিন আইনসভায় পাশ হওয়া যে কোনও বিল ভেটো প্রয়োগ করে রদ করে দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। কোনও বিলে সম্মতি থাকলে প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর করবেন। না হলে তা পুনর্বিবেচনার জন্য ফের আইনসভার কাছে পাঠাবেন। ঘটনাচক্রে, বুধবার ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একটি লাল রঙের টুপির ছবি পোস্ট করেন, যার উপরে লেখা রয়েছে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ভেটো’ শব্দটি।

যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রথমে অনেকটাই ‘নিষ্প্রভ’ ছিলেন ট্রাম্প। ভোটগ্রহণ পর্ব চলার মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। ‘সিবিএস নিউজ়’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সুরে জানান, নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমেরিকার রাজনীতির উপর তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে— যাকে বলে ভেটো!’’ ট্রাম্প এ-ও জানান, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে যদি তাঁকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলে সম্বোধন করা হয়, তবে তাতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।

ট্রাম্পের জন্য আরও একটি অস্বস্তির জায়গা হল, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তদন্ত শুরু করতে পারবেন মার্কিন আইনসভার দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলা ডেমোক্র্যাটরা। বিভিন্ন নথিপত্র ও সাক্ষীদের তলব করতে পারবে তারা। এমনকি, শুরু করতে পারবে তৃতীয় বার ট্রাম্পকে বরখাস্ত (ইমপিচ) করার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও!


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ