সভা শুরু হওয়ার দু’ঘণ্টা আগেই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে রামলীলা ময়দানে জনস্রোত!
বাংলার জনরব ডেস্ক : রবিবার ভোট থেকেই দিল্লির গন্তব্যস্থল হয়ে যায় রামলীলা ময়দানে। নয়দিল্লী স্টেশনে যত ট্রেন থামছে সব ট্রেনেরই যাত্রীদের একটাই পথ রামলীলা ময়দান। বেলা বারোটা থেকে সভার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১০ টা পর্যন্ত শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আমরা জানতে পারছি রামলীলা ময়দান ভর্তি হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ মানুষ রামলীলা ময়দানের সমবেত হয়েছে বলে শেষ খবরে পাওয়া গেল বেলা দশটা পর্যন্ত এই খবর। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। শুধু প্রতিবাদস্থলেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা।
কনট প্লেস-মিন্টো রোডের সংযোগস্থল থেকে রবিবার বেলা ১২টায় মিছিল নিয়ে বেরোবেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধী। থাকবেন মল্লিকার্জুন খড়্গে-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও। এ ছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনদেরও মিছিলে হাঁটার কথা। মিছিল শেষ হবে রামলীলা ময়দানে গিয়ে। দিল্লির রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ ব্যারিকেড করে রেখেছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সবরকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। ২৫০টির বেশি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে শহর জুড়ে।
রামলীলা ময়দানে ইতিমধ্যে অনেকেই জমায়েত করেছেন। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর মিছিল সেখানে পৌঁছে গিয়েছে। সিপিএম-সহ বাম শরিকদলগুলির নেতারাও রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের ডিসিপি (সেন্ট্রাল) রোহিত রাজবীর জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে রামলীলা ময়দানে জমায়েত শুরু হয়েছে। সেখানে কর্মসূচির জন্য আগেই কংগ্রেসের তরফে পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কনট প্লেস থেকে কোনও মিছিলের কথা পুলিশকে আগে জানানো হয়নি। তবে সুষ্ঠু ভাবে বিষয়টি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। রবিবারের কর্মসূচির জন্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
‘ইন্ডিয়া’র কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে রবিবারই দিল্লিতে মিছিল করবে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তদের নেতৃত্বে ওই মিছিল হবে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী অশান্তির ঘটনায় নিহতদের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে। অভিযোগ, জেনেশুনে ওই ঘটনার বর্ষপূর্তিতেই কংগ্রেস বর্তমান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। দিল্লির অপর প্রান্তে বিজেপির এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও তাই পুলিশকে নিরাপত্তা বাড়াতে হয়েছে।

