স্বামীকে বেধড়ক মারধর এবং গলায় ছুরি ধরে হাত-পা চেপে মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ সোনারপুরে!
স্বামীকে মারধর করে খুনের হুমকি দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুভাষগ্রামে! অভিযোগ, আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবার বেড়াতে এসেছিলেন ওই বধূ। সেখানেই তাঁর গলায় ছুরি ধরে খুনের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ কয়েক জনের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে সুভাষগ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ‘নির্যাতিতা’। সে দিনই রাত দেড়টা নাগাদ স্বামীর সঙ্গে ওই পাড়াতেই অন্য এক জনের বাড়িতে ঘুমোতে যাচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময় জনা পাঁচেক যুবক তাঁদের পিছু নেন। কিছুটা দূরে ওই দম্পতির পথ আটকানো হয়। তার পরে স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। অসহায় অবস্থায় তাঁর স্ত্রী চিৎকার করলে ছুরি বার করে তাঁর গলায় ঠেকানো হয় বলে অভিযোগ। তার পরে ওই বধূকে একটি ফাঁকা ঘরে ঢুকিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগ, এক জনই তাঁকে ধর্ষণ করেন। বাকিরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরেছিলেন বলে অভিযোগ। ওই বধূ এবং তাঁর স্বামীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রায় ঘণ্টাখানেক পর অভিযুক্তদের নাগাল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসতে পেরেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ওই বধূ। স্বামীকে নিয়ে রাতে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। শনিবার সকালে সোনারপুর থানায় গোটা ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই দম্পতি। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এলাকাছাড়া মূল অভিযুক্ত-সহ অন্যেরা। তবে তদন্তে নেমে এক জন অভিযুক্তকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কেন এখনও মূল অভিযুক্ত-সহ বাকিদের ধরা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়েরা। তাঁদের অভিযোগ, সুভাষগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে। প্রতি দিন রাতে ওই এলাকায় বহিরাগতদের মদ ও গাঁজার আসর বসে। কারও কারও অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে কেউ কর্ণপাত করেননি। ঘটনার পর থেকে নিজেদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা। মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

