বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্যে ‘অর্জুন বাহিনী’ গড়লেন শুভেন্দু
বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজ্যে নতুন বাহিনী গঠন করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে ‘অর্জুন বাহিনী’র সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, আপাতত বাহিনীতে থাকছে ২০০ সদস্য। কলকাতার জন্য ১০০। পাহাড়ে ৫০ এবং সুন্দরবন এলাকায় ৫০। এই বিন্যাসে বাহিনী কাজ করবে দুর্যোগ মোকাবিলায়। সাম্মানিক স্বরূপ বাহিনী প্রধান ‘বীর নায়ক’কে দেওয়া হবে মাসিক ৪০ হাজার। এবং সদস্য অর্থাৎ ‘বীর’ দের দেওয়া হবে ২৫ হাজার। বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে বেতন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিপদ সংকুল এলাকায় কাজ করবে এই বাহিনী। গুরুতর আঘাত বা প্রাণহানিতে তাই ১০ লক্ষ। অক্ষমতায় ৫ লাখ। মূলত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান তথা অগ্নিবীরদের নিয়ে তৈরি হবে অর্জুন বাহিনী। ভবিষ্যতে এনডিআরএফের কায়দায় আরেবহরে এবং প্রযুক্তিতে এই বাহিনীকে সাজিয়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
তারাতলা কাণ্ডের পরে রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলায় নতুন বাহিনী তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় শুভেন্দু অধিকারী সরকার। ‘অর্জুন বাহিনী’ গঠনের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই কথা মতোই এদিন নবান্ন থেকে নয়া এই বাহিনীর উদ্বোধন করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ”অন্যান্য রাজ্যের মতোই এনডিআরএফের ধাঁচে আধুনিক বাহিনীশুধু তাই নয়, দিঘা, মন্দারমণি, তারাপীঠ মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। এক্ষেত্রে সিভিল ডিফেন্স এবং অগ্নিবীরদের কাজে লাগানো হবে। এমনকী কলকাতায় এই বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরির কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এদিন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ ইস্যুতে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের নেশায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সুযোগ নিয়ে অবৈধভাবে বিল্ডিং নির্মাণ, জলজমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরি, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” এমনকী তৃণমূল সরকারের আমলে মাঝেরহাট, পোস্তা ফ্লাইওভার বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেও তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী। গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আপাতত ২০০ জনকে নিয়ে এই বাহিনী।” তবে আগামিদিনে এই বাহিনী যে আকারে আরও বাড়বে তা এদিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু অধিকারী।

