দেশ 

কৃষক-বিক্ষোভে উত্তাল মধ্যপ্রদেশ! পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে এগিয়ে গেল কৃষক Gen -Z! সংকটে বিজেপি সরকার

শেয়ার করুন

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে কৃষকদের বকেয়া এবং ফসলের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে আছড়ে পড়ল কৃষকদের বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার কৃষক ভোপালে একত্রিত হয়ে মধ্যপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু– কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP) আইনি নিশ্চয়তা-সহ বৃদ্ধি করা, বিদ্যুৎ সাবসিডি প্রদান এবং স্থানীয় স্তরে কৃষি ঋণের সমস্যা সমাধান করা।

মধ্যপ্রদেশের কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই ডিজেল, সার এবং বীজের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে কৃষি কাজের খরচ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কৃষকেরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য বাজারে পাচ্ছেন না। বহু ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলিতেও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সময়মতো শস্য বিক্রি করতে পারছেন না তাঁরা।

কৃষকদের প্রধান দাবিগুলো কী কী:

ফসলের ন্যায্য ও আইনি এমএসপি (MSP): সমস্ত ধরনের খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসলের জন্য স্থায়ী আইনি ন্যূনতম সহায়কমূলক মূল্য নিশ্চিত করা।

বিদ্যুৎ ও সেচ সহায়তা: কৃষিকাজে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদান এবং সেচের কাজে বিদ্যুতের বিলে বিশেষ সরকারি ছাড় বা সাবসিডি জারি রাখা।

ঋণ মওকুফ ও ক্ষতিপূরণ: সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে যে সমস্ত কৃষকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের দ্রুত উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

‘জেন-জি’ ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ

এই বারের ভোপাল আন্দোলনের একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল কেবল বয়স্ক বা প্রবীণ কৃষকেরাই নন, বরং বহু তরুণ প্রজন্ম তথা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) ও ছাত্র-যুবরাও কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কৃষি পরিবারের তরুণ সদস্যরা বর্তমানে প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে এই প্রতিবাদকে আরও বিস্তৃত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তরুণদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ আন্দোলনকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে, যা রাজ্য সরকারের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ও প্রশাসনের অবস্থান

রাজধানীতে হাজার হাজার কৃষকের জমায়েত ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় ভোপাল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করা হয়। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে পুলিস তল্লাশি চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিস কর্মী মোতায়েন করা হয়।

প্রতিবাদ চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার বার্তা দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা জানান যে, সরকার কৃষকদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তাঁদের সমস্ত যৌক্তিক দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রদেশ সরকার কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান বের করতে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

কৃষক আন্দোলনের এই চিত্র সামনে আসতেই মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো অবিলম্বে কৃষকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য ড. মোহন যাদবের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, কৃষক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র মুখের কথায় বা আশ্বাস দিয়ে এবার আন্দোলন তোলা হবে না। সরকার যদি দ্রুত তাঁদের দাবি মেনে নিয়ে লিখিত কোনও সরকারি নির্দেশিকা জারি না করে, তবে আগামী দিনে এই আন্দোলনকে রাজ্যজুড়ে আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। সৌজন্যে জি ২৪ ঘন্টা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ