কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ জেলবন্দি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান,আগামী কাল শুনানি !
কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন জেলবন্দি নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সোমবার সকালে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের পুরোনো এক মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সোমবার সেই প্রসঙ্গ আদালতে তোলেন অয়ন। গ্রেফতারির বিরোধিতার পাশাপাশি রক্ষাকবচের আবেদনও করা হয়েছে হাই কোর্টে। মিলনের আইনজীবীর সওয়াল, ‘‘একটি মামলায় ইতিমধ্যেই আমার মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।’’ সওয়ালের পর মিলনের আইনজীবীকে মামলা দায়ের করতে বলেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। ২২ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার মামলাটি শুনবেন বিচারপতি।
মনোনয়ন পর্ব থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে নানা ডামাডোল চলছে। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের টানাপড়েনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার দুপুরে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান সঞ্চিতা। এর কিছু ক্ষণ পরে মমতা সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন, তাঁর দল (মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস) নন্দীগ্রামে কংগ্রেসকেই সমর্থন করবে। ঘটনাচক্রে, মমতা সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার হন মিলন।
২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছিল মিলনের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, মোট চারটি খুনের অভিযোগ ছিল। তার মধ্যে দু’টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই তাঁকে ধরেছে পুলিশ। এ ছাড়া, মিলনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, মিলনের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগের মামলা রয়েছে। সবক’টি মামলাই হয়েছিল ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি এফআইআর রুজু হয়েছে নন্দীগ্রাম থানায়। একটি মামলা হয় খেজুরি থানায়। পুলিশের দাবি, সেই থেকে ‘ফেরার’ মিলন। আইনি প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই পুলিশ দীর্ঘদিন আগে জারি হওয়া জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে। গ্রেফতার করেছে মিলনকে। হলদিয়া আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন।

