দেশ 

“তদন্তে যদি কোনও রকমের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে কেউ রেহাই পাবে না” নিট ইউ জি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সিবিএসই দ্বাদশের বিতর্কিত মূল্যায়ন নিয়ে প্রতিক্রিয়া শিক্ষা মন্ত্রীর

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : নিট ইউ জি প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে রাস্তায় নেমেছে যুব সম্প্রদায় অন্যদিকে সিবিএসই এর দ্বাদশ শ্রেণীর মূল্যায়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই ছাত্র সমাজে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে। টানা ১৫ দিন ধরে এনে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন হলেও নিরব ছিলেন দেশের শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ১৫ দিন পর অবশেষে তিনি মুখ খুললেন।

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের (সিবিএসই) দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার খাতার প্রতিলিপি দেখানোর ক্ষেত্রে গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলপ্রকাশের পর থেকে সমাজমাধ্যম জুড়ে একের পর এক খাতার প্রতিলিপি নিয়ে নানা অভিযোগে জর্জরিত সিবিএসই। বোর্ডের তরফে বার বার ভরসা রাখার কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর কোনও বক্তব্য জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “তদন্তে যদি কোনও রকমের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মেলে, তবে কেউ রেহাই পাবে না।” শুধু তা-ই নয়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী সিবিএসই বোর্ডের নতুন চালু করা ‘অন স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) ব্যবস্থার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে এই পদ্ধতিটি এক ‘প্রগতিশীল পদক্ষেপ’। এই পদ্ধতিতে খাতা দেখার ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং এতে ছাত্র-ছাত্রীদেরই উপকার হবে বলে মনে করেছেন তিনি।

যদিও এর মধ্যেই ঘটনায় জড়িয়ে গিয়েছে রাজনীতি। সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতা দেখার দায়িত্ব যে সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাহুল গান্ধী। সিবিএসই-র কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ওই সংস্থাকে কি কোনও বিশেষ কারণে খাতা দেখার বরাতটি ঘুরপথে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে? যুক্তি হিসাবে রাহুল বলেছিলেন, এর আগে নাম বদলে তেলঙ্গানায় একই কাজ করেছিল সংস্থাটি আর সেখানেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে রাহুল জানতে চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক কি তবে যাচাই না করেই এত বড় একটা দায়িত্ব দিয়ে দিল সংস্থাটিকে?

শুধু সিবিএসই নয়, বর্তমানে ভারত এবং বিদেশের বহু বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খাতা দেখার জন্য এই ধরনের ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি বা ওএসএম ব্যবস্থা চালু করেছে বলে বৃহস্পতিবার দাবি করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর। তবে ভুল যে হয়েছিল, তা-ও স্বীকার করেছেন করেছেন ধর্মেন্দ্র। একই সঙ্গে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি, “সব ঠিক হয়ে যাবে, দায়িত্ব আমার।” শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেই সমস্ত ভুল সংশোধন করে নেওয়া হবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘‘আমরা একজন পড়ুয়ার মনেও কোনও প্রশ্ন বা উদ্বেগ রাখব না, সকলের সমস্যার সমাধান করা হবে।’’

রাহুলের করা ভিডিয়োবার্তার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি পরেও করা যাবে। এই মুহূর্তে দেখতে হবে পরীক্ষার্থী এবং ছাত্রছাত্রীদের মানসিক চাপ যেন আর না বাড়ে।” তিনি সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁরা যেন এমন কোনও মন্তব্য না করেন, যা ফলাফল ও খাতা পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা পড়ুয়াদের মানসিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ