কলকাতা 

“ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা চুপ করে থাকবে না”অসমের ফরেনারস ট্রাইব্যুনালের চিঠি বাংলার নাগরিককে তীব্র প্রতিক্রিয়া মমতার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বাংলার সাধারন মানুষকে নিশানা করে এবার এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি চালু করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার বর্ষা মুখর দিনে সকালে ফেসবুকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি পোস্ট করেন। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় লেখা সেই পোস্টে তিনি রীতিমতো এনআরসি নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন,”I am shocked and deeply disturbed to learn that the Foreigners Tribunal in Assam has issued an NRC notice to Uttam Kumar Brajabasi, a Rajbanshi, resident of Dinhata in Cooch Behar for over 50 years. Despite furnishing valid identity documents, he is being harassed on suspicion of being a “foreigner/illegal migrant.”

This is nothing short of a systematic assault on democracy. It is proof that the ruling BJP dispensation in Assam is attempting to implement NRC in Bengal, where it holds no power or jurisdiction. A premeditated attempt is being made to intimidate, disenfranchise, and target marginalised communities. This unconstitutional overreach is anti-people, and exposes BJP’s dangerous agenda of bulldozing democratic safeguards and erasing the identity of Bengal’s people.

This alarming situation calls for urgent unity among all Opposition parties to stand up against BJP’s divisive and oppressive machinery. Bengal will not stand by as the constitutional fabric of India is torn apart.”

এরপরই বাংলায় লিখেছেন,”আমি হতবাক ও অত্যন্ত বিচলিত হয়েছি জেনে যে, কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা রাজবংশী সম্প্রদায়ের উত্তম কুমার ব্রজবাসীকে অসমের ফরেনার্স ট্রাইবুনাল, এনআরসি নোটিশ জারি করেছে। গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই বাংলার বাসিন্দা। তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও, তাঁকে “বিদেশি/অবৈধ অনুপ্রবেশকারী” সন্দেহে হয়রানি করা হচ্ছে।

এটি আমাদের গণতন্ত্রের উপর একটি পরিকল্পিত আক্রমণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটিই প্রমাণ করে যে অসমে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যেখানে তাদের কোনো ক্ষমতা বা অধিকার নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভয় দেখানো, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া এবং নিশানা করার একটি পূর্বপরিকল্পিত নোংরা চক্রান্ত চলছে। এই অসাংবিধানিক আগ্রাসন জনবিরোধী এবং এটি বিজেপির বিপজ্জনক ষড়যন্ত্রকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক সুরক্ষাকে ধ্বংস করে বাংলার মানুষের পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।

এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দলগুলির একজোট হওয়া এবং বিজেপির বিভাজনমূলক ও দমন পীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ভারতবর্ষের সাংবিধানিক কাঠামোকে ধ্বংস করা হলে, বাংলা চুপ করে থাকবে না।”

বিষয়টি নিয়ে সোমবারই সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ বোর্ডের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কোচবিহারের বাসিন্দা উত্তমকে এনআরসি নোটিস পাঠিয়েছে অসমের বিজেপি সরকার। সামিরুল নথি তুলে ধরে জানান, ১৯৬৬ সালে প্রথম ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত হয়েছিল উত্তমের। তার পরেও কী ভাবে অসম সরকার ওই ব্যক্তিকে এনআরসির নোটিস পাঠাল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ