কলকাতায় নাটক চলাকালীন সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা
নিজস্ব প্রতিনিধি : খাস কলকাতায় নাটক চলাকালীন, হলে ঢুকে শাসালো আরএসএস বিজেপির কয়েকজন যুবক। ঘটনার প্রেক্ষিতে সাংস্কৃতিক কর্মী ও নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ, যুগপৎ উদ্বেগের সঞ্চার হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার ৯ আগষ্ট বাঘাযতীনের একটি প্রেক্ষাগৃহে। এদিন প্রথম পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠানের পর দুটি ১৪ মিনিটের একাংক নাটক অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।
‘ রবীন্দ্র নাটকে সংগ্রামী ভাবনা ‘ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন বিশিষ্ট লেখক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল দুটি নির্বাক নাটক ‘ দুই বিঘা জমি ‘ এবং সমরেশ বসুর
‘ আদাব এবং তারপর ‘। এদিনের সমগ্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরউদ্যোক্তা সংস্থা অরিজিৎ মিত্র স্মারক কমিটির পক্ষে বিশিষ্ট লেখক রাজীব গুহ জানান, সেহেতু নাটক দুটি নির্বাক ছিল বলে, প্রয়োজনে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
বস্তুতঃ এখানেই গন্ডগোলের সূচনা। আদাব নাটকে একটি আজান ধ্বনি কণ্ঠে উচ্চকিত হবার পরপরই
কয়েকজন বহিরাগত হামলাবাজ যুবক চিৎকার হল্লা করে সোজা হলে ঢুকে গিয়ে শাসানি দিয়ে বলতে থাকে, আজান দেওয়া চলবেনা।ঘটনার তাৎক্ষণিকতায় দর্শক শ্রোতাদের মধ্যে অনেকেই প্রবল আতঙ্ক হয়ে পড়েন। পরে উদ্যোগোক্তাদের মধ্য থেকে
হামলাবাজদের চ্যালেঞ্জ করে বলা হয় নাটকে আজান ঘন্টাধ্বনি মন্দির মসজিদ কীভাবে ব্যবহার করা হবে তা কি আপনারা বলে দেবেন নাকি! উদ্যোক্তাদের অনেকেই রুখে দাঁড়িয়ে উঠে বলেন, যান যান,আমরা নাটক আমাদের মতোই করবো।
এই ঘটনাটি কোনও লঘুক্রিয়া নয়। পরিকল্পিত। সুতরাং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ লড়াই আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে। অরিজিৎ মিত্র স্মারক কমিটির পক্ষে শীঘ্রই প্রতিবাদের কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশিষ্ট লেখক ও চিত্র শিল্পী কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, এটি সাংস্কৃতিক হামলা। সাংবাদিক কবি গালিব ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা গভীর উদ্বেগের বিষয় যা দূর্ভাগ্যক্রমে এই বাংলায় বাড়ছে।
এটি বলাবাহুল্য, কালচারাল লিঞ্চিং। কয়েকদিন আগে আরও একজন নাট্যকর্মীকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে আসা একজন শ্রোতা বলেন, বিখ্যাত নাট্যকার সাফদার হাশমিকে নাটক চলাকালীন হত্যার ঘটনা মনে পড়ছে। এসব বরদাস্ত করা যায়না।
ছবিতে হামলাবাজদের একজনকে শাসাতে দেখা যাচ্ছে।

