তিন মাস পর সাংসদ বিধায়ক দম্পতি বাড়ি ফিরেই জন বিক্ষোভের মুখে রাতেই বাড়ি ছাড়লেন!
কোচবিহার জেলায় একটিমাত্র আসনে জিতেছে তৃণমূল। সিতাই। কিন্তু ওই বিধানসভার বিধায়ক সঙ্গীতা রায়কে ভোটের ফলের পর থেকে এলাকায় দেখা যায়নি। স্বামী (যদিও হলফনামায় স্বামী সংক্রান্ত তথ্য দেননি সঙ্গীতা) কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়াও এত দিন ছিলেন দিল্লিতে। সোমবার মাঝরাতে বাড়ি ফিরেছিলেন দু’জন। কিন্তু বিক্ষোভের মধ্যে রাতেই আবার বাড়ি ছাড়েন তাঁরা। জগদীশের দাবি, তিনি চান না, এলাকায় অশান্তি হোক। তাই বেরিয়ে গিয়েছেন।
জগদীশ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দিয়েছেন। এত দিন দিল্লিতেই ছিলেন। পুত্রের চিকিৎসার কারণে সঙ্গীতা কলকাতায় ছিলেন বলে খবর। বস্তুত, গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর একবারই সাংসদ স্বামী এবং বিধায়ক পত্নীকে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গিয়েছিল। তবে বাড়ি যাননি তাঁরা। সোমবার রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় সিতাই বাজার এলাকায় নিজেদের বাসভবনে ঢোকেন জগদীশ-সঙ্গীতা। কোনও ভাবে সেই খবর পাঁচকান হতেই শোরগোল শুরু হয়ে যায়। এলাকার সাংসদ এবং বিধায়কের বাড়ি ঘিরে চিৎকার-চেঁচামেচি, স্লোগান দেওয়া শুরু করে একদল মানুষ। কারও হাতে কোনও দলীয় পতাকা দেখা যায়নি।
প্রবল হট্টগোলের মধ্যে বসুনিয়াদের বাড়িতে পুলিশ যায়। কিন্তু বিক্ষোভ থামেনি। বরং পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এমতাবস্থায় বাড়ি থেকে আপাতত বাইরে থাকাই শ্রেয় মনে করছেন সাংসদ এবং বিধায়ক। তাঁরা রাত ১২টা নাগাদ বাড়িতে ঢুকেছিলেন। রাত ২টো নাগাদ পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে নিয়ে বাড়ি থেকে বার হন স্বামী-স্ত্রী। সিতাই থেকে তাঁরা কোচবিহারের দিকে রওনা দেন।
কারা এই বিক্ষোভ দেখালেন? এখন তো ‘ভাল তৃণমূলে’ সঙ্গীতা। জগদীশও এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। প্রশ্ন করতেই বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মনের মন্তব্য, ‘‘কে কখন বাড়িতে ঢুকবেন আর কখন বার হবেন, আমার কাছে তো সেই খবর থাকবে না। তবে আমাদের দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন ক্ষোভ-বিক্ষোভ করা যাবে না। এখন সাধারণ মানুষ যদি এ সব করে, তাতে তো আমাদের কিছু করার নেই।’’
মাঝরাতে বাড়িছাড়া প্রসঙ্গে দূরভাষে সাংসদ বসুনিয়া বলেন, ‘‘আমার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল বাড়িতে। সেই কাগজপত্র নিতে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার খোঁজখবর নিতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল!’’ সাংসদের সংযোজন, ‘‘আমি যদি বাড়িতে থাকতাম, তা হলে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হলেও হতে পারত। কিন্তু আমি চাই না, আমার থাকার জন্য এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হোক। গন্ডগোল-ঝামেলা চাই না। তাই রাতেই এলাকা থেকে চলে এসেছি।’’

