Featured Video Play Iconপঞ্চায়েত সংবাদ 

প্রচারে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদ

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ মিজানুর রহমানঃ

দীর্ঘ দিনের লালদুর্গ ভাঙতে এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের ৩৬ নম্বর আসনে শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদকে টিকিট দিয়েছে শাসকদল। প্রার্থী হিসাবে নিজের নাম ঘোষণার পর থেকেই  ‘লালগড়ে’ ঘাসফুল ফোটানোর লক্ষ্যে এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা- কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন তিনি।  রুটিনমাফিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছেন ফারহাদসাহেব নিজেই। তাঁর প্রচারে সফরসঙ্গী হয়ে দেখা গেল প্রচারে বিপুল পরিমাণে সাড়া পাচ্ছেন এই শিক্ষক নেতা। ছাত্র- যুব থেকে শুরু করে হাজি সাহেব, শিক্ষক সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও ফারহাদ সাহেবের সঙ্গে প্রচারে পা মেলাচ্ছেন। প্রচারে তিনি যেভাবে সাড়া পাচ্ছেন, তাতে মনে হল  ৩৬ নম্বর আসনে ৪০ বছরের বামদুর্গ ভেঙে এবার ঘাসফুল ফোটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।

প্রচারে শিক্ষক নেতা একেএম ফারহাদ

 

নূরনগর, সোহায় শ্বেতপুর,দেগঙ্গা এক নম্বর ও বেড়াচাপা এক নম্বর এই চারটি পঞ্চায়েত এলাকা নিয়ে ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনটি গঠিত। এই আসনে বুথের সংখ্যা ৮৭ টি। ভোটারের সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি। এলাকার প্রত্যেকটি বুথে চসে বেড়াচ্ছেন এই শিক্ষক নেতা। সময় পেলেই নিজের ভাতিন্ডার বাড়ি থেকে দেগঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন তিনি। প্রচারে সর্বক্ষণের সঙ্গী হিসাবে সঙ্গে থাকছেন দেগঙ্গা ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেস ব্লক সভাপতি মফিদুল হক সাহাজি ওরফে মিন্টু। যিনি নিজেও এবার ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনের অন্তর্গত একটি পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া থাকছেন এলাকার প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রার্থীরাও। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকাবাসীর সব অভাব অভিযোগের কথা শুনছেন ফারহাদ। সেই সঙ্গে তিনি জয়ী হলে এই সব সমস্যার সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। তবে বিরোধীদলের সমর্থক কিংবা শাসকদলের সমর্থক সকলেই প্রচারে দারুন সাড়া দিচ্ছেন। সিপিএমের এক কর্মীর বাড়িতে যেতেই তিনি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা সিপিএম করে আসছি। গতবার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদে বামফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী পাপড়ি দত্তকে ভোট দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি জয়ী হওয়ার পর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে অভাব অভিযোগের কথা শোনা তো দুরঅস্ত নির্বাচনের পর তাঁর টিকির দেখাও মেলেনি। অন্যদিকে ফারহাদ সাহেবকে দেখেছি উনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও  দিনরাত কঠোরপরিশ্রম করে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে থাকেন। এছাড়া রাজ্য হজ্ব কমিটির সদস্য হিসাবেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা দেখেছি শীতের দিনে কনকনে ঠান্ডা কিংবা ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ফারহাদ সাহেব রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম কিংবা খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে হাজিসাহেবদের অভ্যর্থনা জানাতে যেতেন বিমানবন্দরে। তাঁর কাজ দেখে আমাদের মনে হত উনি হজ্ব কমিটির সদস্য নয়, বরং স্বেচ্ছাসেবক। এই রকম একজন  কাজের মানুষকে আমরা প্রার্থী হিসাবে  পেয়েছি। এটা আমাদের গর্বের বিষয়। তাই এবার আমরা একজন যোগ্য মানুষকেই ভোট দিয়ে জিতিয়ে আনব। যার ফলে এলাকার সাধারণ মানুুষ কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী সহ নানান সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুুুুবিধা যথাযথভাবে পাবে।’ ফারহাদ সাহেবও তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, জয়ের পর তিনি এলাকার মানুষের আপদে বিপদে সব সময় পাশে থাকবেন। তবে এলাকার শুধু একজন সিপিএম কর্মীই নন, নিজেদের দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অনেকেই ফুঁসছেন।

নিজের জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী এই শিক্ষক নেতা। তিনি বলেন, উত্তর ২৪ পরগণা জেলা সভাপতি তথা খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক নিজে জেলায় নির্বাচন পরিচালনার কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বেই সন্দেশখালি ও হিঙ্গলগঞ্জ এই বিধানসভাকেন্দ্র দুটি স্বাধীনতার পর প্রথম বামেরা পরাজিত হয়েছিল ২০১১ সালে। জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ৩৬ নম্বর জেলা পরিষদ আসনটির ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment